Cricket News

ব্যাট হাতে মুশফিকের সেঞ্চুরি,বল হাতে মিরাজ,সাকিব ও মুস্তাফিজদের ঘূর্ণিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল টাইগাররা!

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানে পরাজিত করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দেয়া ২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দলীয় ২৪ রানে কুশল পেরেরার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কান এই ওপেনারকে সাজঘরে ফিরান এই ম্যাচে অভিষেক ঘটা তরুণ বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ১৫ বলে ২ চারে ১৪ রান করে শরিফুলের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন পেরেরা।

এরপর ধানুশকা গুনাথিলাকা ও পাথুম নিসাঙ্কা মিলে গড়েন ২৯ রানের জুটি। তাদের এই জুটি লম্বা হতে দেয়নি মুস্তাফিজুর রহমান। ৪৬ বলে ২ চারে ২৪ রান করে আউট হন গুনাথিলাকা। এরপর শ্রীলঙ্কার কোনো জুটিকে লম্বা দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। দলীয় ১০০ রানের আগে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কানদের দলীয় ৭১ রানে পাথুম নিসাঙ্কাকে ফেরান সাকিব আল হাসান। ৩৬ বলে ২ চারে ২০ রান ক্যাচ তুলে আউট হন পাথুম নিসাঙ্কা। এরপর দলীয় ৭৭ রানে কুশাল মেন্ডিসকে সাজঘরের রাস্তা দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ বলে ১ ছয়ে ১৫ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন মেন্ডিস।

ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটান সাকিব আল হাসান। দলীয় ১০৪ রানে দাশুন শানাকা ও দলীয় ১১৪ রানে ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গার উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর অ্যাশেন বান্দারা ও লক্ষণ সানদাকানের উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ৩৮তম ওভারে শ্রীলঙ্কার দলীয় ১২৬ রানে বৃষ্টি বিঘ্ন ঘটায় ম্যাচে। ফলে বন্ধ থাকে খেলা। ১২৬ রানে ৯ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর খেলা শুরু হলে ডিএলএস মেথডে ১০ ওভার কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত ৪০ ওভার শেষে ১০৩ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ এই জয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। এছাড়াও সাকিব আল হাসান দুটি ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

এর আগে মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ভালো কিছুর আভাস দিলেও শুরুতেই তামিম ইকবালের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৫ রানে তামিম ইকবালকে এলবিডব্লিউর শিকার করেন দুশমান্থা ছামিরা। ৬ বলে ৩ চারে ১৩ রান করে আউট হয়ে যান তামিম। দুশমান্থা ছামিরার একি ওভারে সাজঘরে ফিরেন সাকিব আল হাসানও। ৩ বল খেলে কোনো রান না করে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরেন সাকিব আল হাসান।

এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। মুশফিককে সাথে নিয়ে শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামাল দিলেও বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি লিটন দাসও। দলীয় ৪৯ রানে লক্ষণ সানদাকানের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন লিটন। ৪২ বলে ২ চারে ২৫ রান করে আউট হন লিটন কুমার দাস। এরপর মুশফিকের সাথে জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুনের বদলে দলে জায়গা পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলীয় ৭৪ রানে মোসাদ্দেককে সাজঘরে ফিরান সানদাকান। ১২ বলে ১ চারে ১০ রান করে আউট হন মোসাদ্দেক।

প্রথম ওয়ানডেতে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ জুটি বাংলাদেশ দলকে বড় সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। যার ফলস্বরূপ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও দেখা গেল একি চিত্র। দলের সকলে যখন একে একে হাঁটছে প্যাভিলিয়নের পথে তখনই আরো এক দূর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। প্রথম ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও মুশফিকুর রহিম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৪১তম অর্ধশতক পূর্ণ করেছেন মি.ডিপেন্ডেবল খ্যাত এই ব্যাটসম্যান।

মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকের ৮৭ রানের সেই জুটি ভাঙে লক্ষণ সানদাকান। দলীয় ১৬১ রানের সময় সানদাকানের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৫৮ বলে ১ চার ২ ছয়ে ৪১ রান করে আউট হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদের উইকেটের পর আবারো খেই হারায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মেহেদী হাসান মিরাজ বেশীক্ষণ থাকতে পারেনি ক্রিজে। দলীয় ১৭৮ রানে ৯ বলে ২ চারে ১০ রান করে ইসুরু উদানার বলে ক্যাচ তুলে আউট হন আফিফ। অন্যদিকে দলীয় ১৮৪ রানে কোনো রান না করেই হাসরাঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর বৃষ্টি ব্যাঘাতে কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টির জন্য ম্যাচ বন্ধ হয়ে আবার শুরু হওয়ার পর সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক তুলে নেন মুশফিক৷

শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ১২৭ বলে ১০ চারে ১২৫ রানে ভর করে অলআউট হয়ে ২৪৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের হয়ে বল হাতে তিনটি করে উইকেট শিকার করেছেন লক্ষণ সানদাকান ও দুশমান্থা ছামিরা। এছাড়াও ইসুরু উদানা দুটি ও ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন।

Bangladesh Vs Sri Lanka, Bangladesh Vs Sri Lanka 2021, Bangladesh Vs Sri Lanka Odi Series, Bangladesh Vs Sri Lanka 2nd Odi, Bangladesh Vs Sri Lanka Odi Series, Mushfiqur Rahim, Mehidy Hasan Miraz, Mustafizur Rahman, Shakib Al Hasan, Mushfiqur Rahim Century

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this:
Enable Notifications    OK No thanks