মাথায় চালের বস্তা নিয়ে ক্ষুদার্তদের দরজায় র‍্যাব কমান্ডার আনোয়ার হোসেন শামীম!

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশকে গ্রাস করে নিচ্ছে। প্রথম দিকে ধীর গতিতে বাড়লেও বর্তমানে চিন্তাজনকহারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা।.

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশকে গ্রাস করে নিচ্ছে। প্রথম দিকে ধীর গতিতে বাড়লেও বর্তমানে চিন্তাজনকহারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা। এমন অবস্থায় দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এমন লকডাউনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দিনে এনে দিনে খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন। সরকার ইতিমধ্যে এসব মানুষের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সরকারের উদ্যোগকে প্রসারিত করতে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে স্থানীয় র‍্যাব। যার জন্য সারাদেশের মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে র‍্যাব বাহিনী এবং শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো.আনোয়ার হোসেন শামীম।

এ বিষয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন আনোয়ার হোসেন শামীম। সেই পোস্টে একটি ছবি সংযুক্ত করেন তিনি। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে নিজ মাথায় ত্রানের বস্তা তুলে নিয়ে অসহায়দের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন শামীম। যা দেশবাসীর নিকট এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

র‍্যাব কমান্ডার আনোয়ার হোসেন শামীম এর ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। যার শিরোনাম ছিল ‘নিজে কেন বহন করি’

অনেকেই জানতে চান, আমি একজন বিসিএস ক্যাডার অফিসার এবং র‍্যাবের কমান্ডার হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যসামগ্রীর বস্তা নিজে বহন করি কেন? বোঝা নেওয়ার জন্য নিচের র‍্যাংকের লোকজন তো আছেই। আসলে এক্ষেত্রে আমার ভাবনাটা একটু ভিন্ন। আমি যদি আমার অধীনস্থ র‍্যাব সদস্যদেরকে বোঝা বহন করবার আদেশ দিয়ে নিজে খালি হাতে হাঁটতাম, তাহলে তারা হয়তো আমাকে স্বার্থপর একজন নেতা হিসেবেই চিহ্নিত করতো, যা তাদের কর্মস্পৃহা ও মনোবলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতো নিশ্চিত। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে অধস্তনদের সমান ভার নেওয়া, চাল-ডালের বস্তা মাথায়/হাতে নিয়ে সবার সামনে সামনে চলাই আমার নেতৃত্ব দানের স্টাইল। কাঁধের র‍্যাংক দেখে নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হোক এখানে কমান্ডার কোন জন। অফিসাররা বোঝা মাথায় নিলে জাত চলে যাবে, বোঝা বহন করা শুধু নিচের র‍্যাংকের লোকদের কাজ- এমন অমানবিক ও মধ্যযুগীয় চিন্তাধারা করোনা ভাইরাসের সাথে সাথে পৃথিবী থেকে বিদায় হোক।

শুধুমাত্র এই মহৎ কাজই করছেন না শামীম তার সাথে সাথে করে চলেছেন বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। গত ২৯ মার্চ শ্রীমঙ্গলের চৌমুহনীতে হাত ধোয়ার জন্য নিরাপদ কর্ণার স্থাপন করেন তিনি। পরদিন সকালে শত শত মানুষ সেখানে হাত ধুতে থাকে। সেই খবর দ্রুত গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই হাত ধোঁয়ার নিরাপদ কর্ণার স্থাপন করা হয়। যার পেছনে অনুপ্রেরণা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন শামীম।

এছাড়াও গরিবদের পাশে দাঁড়ানোর অনেক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন কমান্ডার শামীম। গত ২৫ মার্চ সকল দোকানপাট বন্ধ করার ঘোষণা এবং ২৬ মার্চ থেকে সকল যানবাহন বন্ধ হওয়ার ঘোষণা আসলে অনেকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সরকার খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিলেও বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার পূর্বে কিছু কিছু পরিবারের খাদ্যের সংকট দেখা দিলে সেসব পরিবারের কাছে নিজ সাধ্যমতো খাদ্য সহায়তা নিয়ে পৌঁছে যান কমান্ডার শামীম। গণমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রতিনিয়তই শামীমের কাছে খবর আসতে থাকে গরিব মানুষদের সাহায্যের জন্য। নিজের সাধ্যমতো সকলের নিকট এভাবেই খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্চে র‍্যাব কমান্ডার আনোয়ার হোসেন শামীম।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মৌলভীবাজারে বৃষ্টি শুরু হলে স্থগিত করা হয় বেশিরভাগ সংস্থার ত্রাণ সহায়তা। ঠিক সেসময় র‍্যাবের এই কমান্ডারের নিকট খবর আসে উপজেলার টুলিপাড়ার বস্তি এলাকার অনেকগুলো সংখ্যালঘু পরিবার সারাদিন না খেয়ে আছে এমনকি রাতেও কপালে খাবার জুটেনি তাদের। ঠিক সেসময় খবর পেয়েই ঝড-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেসব অসহায়দের নিকট পৌঁছে যান শামীম।

সাহায্য পাওয়া টুলিপাড়া বস্তির বাসিন্দা বিধবা সন্ধ্যা রানি কর এ প্রসঙ্গে জানায়, বৃষ্টি বাদলা হতে দেখে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেন, সারাদিনে উপোস থাকা বাচ্চাগুলো রাতেও যেন উপোস না থাকতে হয়। আমি না খেয়ে থাকি কিন্তু বাচ্চাগুলোর যেন একটা ব্যবস্থা হয়। এমন সময় ভগবান র‍্যাব স্যারকে চালডাল দিয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।

এমন দূর্যোগের সময় কোনো স্বার্থপর চেয়ারম্যান,মেম্বার কিংবা নেতা নয় বরং এমন একজন আনোয়ার শামীমই দরকার এটাই কাম্য সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: