করোনার সময় কাক হওয়া যবেনা

করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শুধুমাত্র যেসব রোগী এসেছে বিদেশ থেকে। অথবা যেসব রোগীর আত্মীয় বিদেশ থেকে এসেছে সেসব রোগীকে পরীক্ষা.

করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শুধুমাত্র যেসব রোগী এসেছে বিদেশ থেকে। অথবা যেসব রোগীর আত্মীয় বিদেশ থেকে এসেছে সেসব রোগীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সন্দেহভাজন সাধারণ কোনো নাগরিককে এই টেস্ট করানো হয়নি। যার ফলে করোনা আক্রান্ত হয়তো অনেক রোগীই জানতে পারছেন না তার করোনা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছেন প্রত্যেক সন্দেহভাজন এবং উপসর্গ আছে এমন সম্ভাব্য সকল লোককে করোনা টেস্ট করাতে। কিন্তু বাংলাদেশ কিট না থাকায় তা এখনও করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারটি কত ভয়ঙ্কর হতে যাচ্ছে তা জানা যাবে ডাক্তার তারিকুল ইসলাম শিশির এর কাহিনী জানলে। তিনি হলেন সেই ডাক্তার যিনি বাংলাদেশের প্রথম করোনায় মৃত্যুবরণ করা রোগীর চিকিৎসা করেছিলেন।


তিনি বলেন :-

প্রিয় বাংলাদেশ।। শুভ সকাল।।
আজকে আমার হোম কোয়ারান্টাইন এর ৪ দিন। সুনিশ্চিত করোনা রোগীর সংস্পর্শে আশার সন্দেহে এবং পরবর্তিতে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা হওয়ায় আমাকে হোম কোয়ারান্টাইন এ থাকতে বলা হয়। আমি আমার জায়গা থেকে তা পুরাপুরি মেনে চলছি। কিন্তু এই চারদিন আমি বিভিন্ন ভাবে IEDCR যোগাযোগ করেও নিজের টেস্ট করাতে পারিনি। যদিও গলাব্যথা, কাশি ছাড়া বাকি উপসর্গ কিছুটা ভালোর দিকে, তথপিও তারা একবার আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টাও করে নাই।।

আজ সারা দেশে ৯০ হাজার প্লাস চিকিৎসক সেবা দিচ্ছে। তাদের সবার পরিবার আছে।। আমি আপনাদেরকে বলছি আর যাই করেন নিজের প্রোটেকশন ছাড়া চিকিৎসা দিতে যাবেন না। কেননা যদি আপনি আক্রান্ত হন তবে আপনার টেস্ট হবে কিনা সেটাই নিশ্চিত না। বাকি সব বাদ দেন।।

গত ডেংগু সিজন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যে পরিমান সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছিল তা আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু কোন মানুষ এই অবদান স্বীকার করেছিল বলে আমার মনে পড়ে না।। বরং নানা কারনে আমাদের গালি দেয়ার জন্য কম্পিটিশন চলে।

হতাশ হওয়ার কিছু নাই। যে দেশে ক্রিকেট ম্যাচে ৫০ রান করলে গাড়ি বাড়ি পাওয়া যায়,সে দেশের মানুষের মানষিকতা নিয়ে কথা বলা মানায় না।”



তার এই কথাগুলো থেকে একদিকে ফুটে উঠছে করোনার প্রকৃত চিত্র অর্থাৎ অনেককেই স্ক্রিনিং করা হচ্ছে না, যার কারণে ধরা পড়ছে না করোনা।

অন্যদিকে বলা যায় বর্তমান যে সংখ্যা রয়েছে করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রকৃতপক্ষে তা অনেক বেশি শুধুমাত্র পরীক্ষা না করায় আমরা ধরতে পারছিনা কত জন আসল রোগী।

সরকার করোনা প্যানডেমিক শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রস্তুতি না নেওয়ায় এখন এই সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। আগে থেকেই যদি কিট এনে রাখত, অন্তত মার্চের ১ তারিখ থেকে তাহলে এই সমস্যা হতো না। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্বেও, আনা হয়েছিল মাত্র ২০০০ কিট যেটা একদিকে যেমন হাস্যকর, অন্যদিকে ব্যর্থতা বলা যায়।

উল্লেখ্য আজ বেশ কিছু সাহায্য এসেছে পাশাপাশি অনেকগুলো কিট এসেছে। কিন্তু এরপরেও যদি আক্রান্ত রোগীদের ঠিকমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা না হয় অর্থাৎ শুধুমাত্র বেছে বেছে বিদেশ ফেরত এবং তার পরিবারের পরীক্ষা করা হয় তাহলে সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা কখনোই বোঝা যাবে না।


মনে রাখতে হবে করোনা আক্রান্ত একজন বিদেশফেরত রোগী শুধুমাত্র তার পরিবারের সংস্পর্শে আসেনি। যাত্রাপথে যেমন ড্রাইভারের সংস্পর্শে এসেছে। বাসার নিচে দারোয়ান এর সংস্পর্শেক এসেছে। সংস্পর্শে এসেছে কোয়ারেন্টাইন অমান্য করে এলাকার বিভিন্ন লোকের সাথে। অতএব পরীক্ষা করতেই হবে।

কাকের একটি বৈশিষ্ট্য আছে। আর তা হল মলত্যাগ করার সময় সে চোখ বন্ধ করে রাখে এবং ভাবে তাকে কেউ দেখেনি। সিম্পটোমেটিক সব মানুষকে স্ক্রিনিং না করায়, করোনার সংখ্যা কম দেখে তাই খুশি হওয়ার কিছু নেই।

সরকার এবং রাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ—- “করোনার সময় কাক হওয়া যবে না”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: