খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন মাশরাফি!! এ যেন এক অন্যরকম এমপি!

করোনার সংক্রমণে খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন পড়েছে হুমকির মুখে। সরকার বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা দিলেও সেসব খাদ্য সহায়তা নিয়ে গ্রামে গ্রামে.

করোনার সংক্রমণে খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন পড়েছে হুমকির মুখে। সরকার বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা দিলেও সেসব খাদ্য সহায়তা নিয়ে গ্রামে গ্রামে চলছে চুরি কিংবা অনিয়ম। কিন্তু অপরদিকে চেহারা ভিন্ন নড়াইলের। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই যেনো সেখানকার মানুষের সাথে মিশে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। একজন অধিনায়কের কর্তব্য কি? কি বা তার দায়িত্ব? একটু নজর ফেলুন মাশরাফির দিকে।

হঠাৎ মোটরসাইকেল নিয়ে নড়াইলের কোনো এক গ্রামে ছুটে চলেছেন মাশরাফি। নড়াইল শহর থেকে বেরিয়ে মুলিয়া এলাকায় হঠাৎ মোটরসাইকেল থামালেন। মোটরসাইকেল থামানোর উদ্দেশ্য একজন কৃষক। যে কিনা কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। মাশরাফি কৃষককে বললেন, চাচা আসসালামুয়ালাইকুম, আমি মাশরাফি। কেমন আছেন? আপনার বাসার সবাই ভালো? ঘরে খাবারদাবার আছে চাচা? এই নেন (এক প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী ও কিছু টাকা)। আসি চাচা, আমার জন্য দোয়া করবেন। করোনা সংক্রমণ থেকে সাবধানে থাকবেন।

কৃষকের হাতে খাবার দিয়ে আবার মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটে চলেছেন মাশরাফি। ভাবতে পারেন একজন এমপি মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন গ্রামে গ্রামে শুধুমাত্র দরিদ্র মানুষদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং খোঁজখবর নেওয়ার জন্য! তিনি সংসদ সদস্য হলেও তার আশেপাশে নেই কোনো পুলিশি পাহারা, নেই কোনো গাড়িবহর কিংবা হুইসেল। এ যেনো সত্যিকারের জনগণের এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এমপি হওয়ার নেই কোনো অহংকার,চড়েন না কোনো দামি গাড়িতে। ত্রাণ দেওয়ার সময় পুলিশ মিডিয়া কিংবা ফটোগ্রাফার নিয়ে করেন না কোনো বাহাদুরি। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে অসহায়দের ডেকে ত্রাণ সহায়তা দেন না। বরং নিজ দায়িত্বে জনগণের পাশে দাঁড়াতে মোটরসাইকেল চালিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি।

খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট নিয়ে কৃষক যখন ঘরে যাবে মনে তার হাজার প্রশ্ন। এমপিও কি এমন হয়। এমন নেতা কি সত্যিই তারা পেয়েছেন। হয়তো মন ভরে দোয়া করেছেন মাশরাফির জন্য।

এ ঘটনার পরদিন নড়াইল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে কালনাঘাট পর্যন্ত যত কৃষক, ভ্যানচালক ছিলেন সকলকে মোটরসাইকেল থামিয়ে সালাম দিয়ে সহযোগীতা করেছেন এমপি মাশরাফি।

এমন অসংখ্য মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন মাশরাফি। ওইসব অসহায় মানুষদের আত্নসম্মাণের কথা চিন্তা করে এসব বিষয়ের ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করেছেন মাশরাফি।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: