ঘরে বসেই খুব সহজে বানিয়ে নিন করোনার ঔষুধ!!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারা বিশ্বে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৮ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত.

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারা বিশ্বে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৮ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এ ছাড়াও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩৭০ জনের।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কোনো ঔষুধ বা ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত বাজারে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র যেই ভ্যাকসিন আবিস্কার করেছে তা বাজারে আসতে সময় লাগবে প্রায় দেড় বছর। এর আগেই এই ভাইরাস মহামারীতে রূপ নিয়েছে।

এমন অবস্থায় এ ভাইরাস প্রতিরোধের ঔষুধ হতে পারে কালিজিরা। যাকে মহৌঔষুধও বলা হয়ে থাকে। কালিজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কালিজিরাকে এজন্য অনেকে কালিহিরা বলেও আখ্যায়িত করেন। এটি শুধুমাত্র একটি মসলা নয়। এটি ব্যবহার হয়ে থাকে আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসায়। কালিজিরার বীজ থেকে এক ধরনের তেল তৈরি হয়, যা আমাদের মানবদেহের অত্যন্ত উপকারী। এই তেলে আছে ফসফেট, আয়রন ও ফসফরাস।

কালিজিরার গুনাগুন নিয়ে প্রশংসা করেছেন স্বয়ং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছেন, কালিজিরায় সকল প্রকার রোগের উপশম আছে, তবে ‘আসসাম’ ব্যতীত। আর ‘আসসাম’ হলো মৃত্যু। এর ‘আল হাব্বাতুস সাওদা হলো'(স্থানীয় ভাষায়) ‘শূনিয'(অর্থাৎ কালিজিরা)। (মুসলিম, হাদিসঃ ৫৬৫৯)

খালিদ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের অভিযানে বের হলাম)। আমাদের সঙ্গে ছিলেন গালিব ইবনে আবজার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর আমরা মদিনায় ফিরলাম, তখনো তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখাশোনা করতে আসেন ইবনে আবি আতিক। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা এ কালিজিরা সঙ্গে রেখো। এর থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে। তারপর তারমধ্যে জয়তুনের কয়েকফোটা জল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এদিকে-ওদিকের ছিদ্র দিয়ে ফোটা ফোটা করে প্রবিষ্ট করাবে। কেননা আশেয়া (রা.) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে তিনি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছেন, এই কালিজিরা ‘সাম’ ছাড়া সব রোগের ঔষুধ। আমি বললাম ‘সাম’ কি? তিনি বললেন মৃত্যু। (বুখারি, হাদিসঃ ৫৬৮৭)।

তাই যেকোনো রোগ নিরাময়ে, রোগ প্রতিরোধ করতে কালিজিরা অত্যন্ত কার্যকারী একটি ঔষুধ বলা চলে।
কালিজিরার ফলে উপকারীতা হলোঃ-

১. মাথা ব্যাথা উপশম করার ক্ষেত্রে কালিজিরার তেল দারুণ উপকারী। এই তেল কপালে মালিশ করলে এবং তিনদিন খালি পেটে ১ চা চামচ তেল খেলে উপকার পাওয়া যায়।

২. চুল পড়ার সমস্যা বড় সমস্যা৷ এই সমস্যা সমাধানে ব্যাপক উপকারী কালিজিরা। এক সপ্তাহ ধরে চুলে শ্যাম্পু করার পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে পুরো মাথায় কালিজিরার তেল ভালোমতো লাগাতে হবে। যার ফলে কমে যাবে চুল পড়া।

৩. হাঁপানির রোগেও নিরাময় দিবে এই কালিজিরা। হাঁপানির রোগীরা বুকে ও পিঠে কালিজিরার তেল মালিশ করলে উপকার পাবেন।

৪. ডায়বেটিস এর জন্য উপকারী কালিজিরার তেল ও চূর্ণ। নিয়মিত এটি খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫. হৃদরোগের ক্ষেত্রেও ব্যাপক কার্যকারী কালিজিরা। চা অথবা গরম পানির সাথে কালিজিরার তেল মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে উপকার পাওয়ার পাশাপাশি শরীরের মেদ-ভূড়িও কমে।

৬. এক কাপ দুধ ও এক চা চামচ কালিজিরার তেল একসঙ্গে মিশিয়ে পান করলে পেটের গ্যাসের সমস্যা সেরে যাবে।

৭. গরম ভাতের সাথে কালিজিরার ভর্তা খেলে উচ্চরক্তচাপ কমে যাবে। যেকোনোভাবেই খেতে পারে কালিজিরা উচ্চরক্তচাপের রোগীরা।

৮. জ্বর হলে সকাল-সন্ধ্যা লেবুর রসের সাথে কালিজিরার তেল খেলে জ্বর দ্রুত সেরে যাবে।

৯. হাঁটুর ব্যথার সারাতে প্রতিরাতে কালিজিরার তেল মালিশ করতে হবে।

১০. ছুলি বা শ্বেতি আক্রান্ত স্থানে আপেলের টুকরা দিয়ে ঘষে নিন, তার পর কালিজিরার তেল লাগাতে হবে। এভাবে ১৫ দিন থেকে ১ মাস পর্যন্ত লাগাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: