চীনের সাজানো নাটক করোনাভাইরাস! যার কবলে পুরো বিশ্ব!

করোনার কবলে পুরো বিশ্ব। বিশ্ব যেনো থমকে দাঁড়িয়েছে এই করোনার তান্ডবে। প্রায় পুরো বিশ্বে চলছে লকডাউন। কিন্তু যেখান থেকে এই.

করোনার কবলে পুরো বিশ্ব। বিশ্ব যেনো থমকে দাঁড়িয়েছে এই করোনার তান্ডবে। প্রায় পুরো বিশ্বে চলছে লকডাউন। কিন্তু যেখান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি সেই চীন ফিরেছে স্বাভাবিক রূপে। আসলেই কি মহামারী নাকি মাস্টার প্ল্যান করা কোনো ষড়যন্ত্র? আবার এ ও বলা যেতে পারে হতেও পারে গ্র্যান্ড বিজনেস প্ল্যান। কি ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে এই করোনাভাইরাসের পেছনে? কিছুটা খোলাসা করা যাক।

নভেল করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বের জন্য যেনো এক আতঙ্ক। কেউ কেউ এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করছে। কিন্তু এ যেনো এক প্রলয়ের মুখে এসে দাঁড়ানো। যেই চীন থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি সেই চীনে এখন জনজীবন স্বাভাবিক। সন্দেহ তো সেখানেই। এই করোনাভাইরাস কোনো ভাদুড় থেকে নয় বরং মানুষের হাতেই তৈরি। বায়ো ওয়েপন বা জৈব অস্ত্র যেটাকে বলে। কেন এই মহামারী সম্পর্কে আগে থেকেই বিশ্বকে সতর্ক করেনি চীন?

এই ভাইরাস যে মহামারীর আকার ধারণ করবে সেটা জেনেশুনেও কেন নিশ্চুপ ছিলো চীন? বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর মিছিল এবং অর্থনীতির ধসে যাওয়া তবে কি এটাই চেয়েছিলো চীন? অনেকে ধারণা করছে এই মহামারীকে হাতিয়ার বানিয়ে বাণিজ্যভাবে ব্যবহার করছে বেইজিং। সংকট কাটিয়ে তারা মাস্ক,ভেন্টিলেটর এবং ঔষুধ সামগ্রী তৈরি করে বিক্রি করছে ইউরোপের করোনা কবলে পড়া দেশগুলোকে। রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্ব সংকটের এই বিষয় নিয়ে আলোচনা উঠলেও তা খারিজ করে দিয়েছে চীন। রহস্য হাজার! রহস্যভেদে গভিরে যাওয়া যাক।

নভেল করোনা ভাইরাস কি চীনের ল্যাবরেটরিতে তৈরি? যেখানে ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেনে যখন মৃত্যুর মিছিল ঠিক সেই সময় কি করে অর্থনীতিসহ সকল সংকট কাটিয়ে ফেলল চীন? যেই চীন এতোদিনে করোনায় হাঁপিয়ে উঠার কথা সেই চীনই এখন ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোকে মোটা অংকের অর্থে চিকিৎসা সামগ্রী সাপ্লায় দিচ্ছে? চীনে ঠিক কতজন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন? কি উপায়ে বা কোন মন্ত্রে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে ফেলল চীন? প্রশ্ন হাজার। উত্তর জানা নেই। তাই সন্দেহ যেনো আরো গভির হচ্ছে। চীনে ইন্টারনেটেও বাছাই করা সেবা পরিসেবা মিলবে সেই দেশে। কারণ চীনের কমিউনিস্ট সরকারি স্বেচ্ছাচারিতার খবর সর্বজনবিধিত। মানুষের খবর পাওয়া সেখানে অনেক দূরের কথা। এই পরিস্থিতিতে তথ্য লুকানো চীনের জন্য বাম হাতের খেলা।

চীন এই ভাইরাস ল্যাবরেটরিতে তৈরি করেছেন এই অভিযোগ যারা তুলেছেন তারা বলছেন, আগে থেকে জানা থাকলেও ইচ্ছে করে করোনার তথ্য লুকিয়েছে চীন।

উহানে প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে উহানের ডাক্তাররা এই মরণঘাতি সম্পর্কে মুখ খুলতে শুরু করেন। যেই ৮ জন চিকিৎসক ভাইরাস সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছে সেই তথ্য সম্পূর্ণ প্রকাশ করেনি চীন। ২৫ ডিসেম্বর থেকে তীব্র গতিতে বাড়তে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা। লি ওয়েনলিয়াং নামের এক চিকিৎসক প্রকাশ্যে করোনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং সতর্ক করেন। এছাড়াও উপসর্গের কথা সামনে আনেন। ৩১ ডিসেম্বর উহান স্বাস্থ্য দপ্তর ঘোষণা করেন নভেল করোনাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় না এবং একজন চিকিৎসকও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। ৩ জানুয়ারি চীন সরকার ডা.ওয়েনলিয়াংয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব চালানোর অভিযোগ এনে মামলা করে। পুলিশের কাছে ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হন চিকিৎসক। পরে তাকে দিয়ে মুচলেখা লিখিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পরে উহানের সব নমুনা পরীক্ষা করা বন্ধ করে দেয় চীন সরকার এবং নষ্ট করে দেওয়া হয় স্টকে থামা নমুনাও। এর পরে কিছুদিন অসুস্থদের নিউমোনিয়ার মতো কিছু হয়েছে বলে সরকারি রেকর্ডে নথিভূক্ত করা হয়। ৮ জানুয়ারী আবারও বিবৃতি দিয়ে জানায় মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ১২ জানুয়ারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ডা. ওয়েনলিয়াং এবং পরে তার মৃত্যু হয়। সব পরামর্শ উড়িয়ে দিয়ে চীন সরকার জানুয়ারীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০,০০০ হাজার পরিবারকে শহরে খাবার আদান-প্রদানের অনুমতি দেয় উহান সরকার। ১৩ জানুয়ারী প্রথম চীনের বাইরে প্রথম করোনা আক্রান্তের খবর মেলে। আক্রান্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের ৬১ বছরের এক বৃদ্ধা।

এইসব তথ্য আঙুল তুলে চীনের ষড়যন্ত্রের দিকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দল চীনে যাওয়ার পরেই প্রথমবারের মতো জানা যায় মানুষ থেকে মানুষ করোনা সংক্রমণ শুধু সম্ভবই না তাই হচ্ছে। সেই সংক্রমণের ভয়াবহতা দেখছে বিশ্বের প্রায় দেড়’শ দেশ। সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে এই ভাইরাস। প্রাণহানি থেকে শুরু করে বিশ্বের অর্থনেতিক ব্যবস্থার ধস সকলকিছু এই এক ভাইরাসের কারণে। তবে চীন এখনো নিরব। চীন তখনও নিরব ছিলো চীন এখনো নিরব রয়েছে।

চীনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকার মামলা হয়েছে। আমেরিকার টেক্সাসের এক আইনজীবী যার নাম ল্যারি ক্লে ম্যান ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের মামলা দিয়েছেন চীন সরকারের বিরুদ্ধে। ডাক্তারদের একাংশের মতে এই করোনাভাইরাসের যেই চারিত্রিক গঠন তার মধ্যে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হলেও হতে পারে।

কানাডার ন্যাশনাল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে কর্মরত একদল চীনা গবেষকদের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের অ্যাকসেস কার্ড। এই গবেষকরা নিয়ম ভঙ্গ করে চীনসহ কয়েকটি দেশের বায়োওয়েপনের কথা প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন।

কানাডার এই ল্যাব বিখ্যাত বিভিন্ন মারণ-ভাইরাস এবং প্যাথজেনের গবেষণার জন্য।

ডক্টর ফ্র্যান্সিস বয়েল যিনি একজন মার্কিন মানবাধিকার আইনজীবী এবং বায়োওয়েপন আইনপ্রনোতার মতে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তৈরি করোনাভাইরাস আদতে একটি মারণাস্ত্র।

মার্কিন সেনেটর টন কটন আমেরিকার একটি শো তে দাবি করেন, তথ্যসূত্র ধরে বোঝা যাচ্ছে যে নভেল করোনাভাইরাস আসলে একটি ল্যাবে তৈরি ভাইরাস।

যেই উহান থেকে এই ভাইরাসের সূত্রপাত সেই উহানেই রয়েছে চীনের একমাত্র লেভেল-ফোর মর্যাদার ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি।

আর ইতিমধ্যে চীনের শিল্প ব্যবস্থা সচল। বর্ডার বন্ধ করে এই মাসেই চালু করা হয়েছে চীনের সব শিল্প কারখানা। শিল্প সংস্থাগুলোকে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। গ্লাভস, মাস্ক, ভেন্টিলেটর সহ সকল চিকিৎসা সামগ্রীই তৈরি করছে চীন। যা প্রয়োজনে মোটা অংকের বিনিময়ে রপ্তানি করা হবে ইউরোপের দেশগুলোতে। একটু সহজ করা বললে পুরো বিশ্বকে করোনার কবলে ঠেলে দিয়ে এখন চিকিৎসা সামগ্রী বানাচ্ছে চীন। যার ফলে ব্যাপক পরিমাণে লাভবান হচ্ছে বেইজিং। মাস্কের চাহিদা বিপুল তাই চীনে কমপক্ষে ৯০০০ নতুন সংস্থা মাস্ক বানাতে শুরু করে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে চীনে এই মুহুর্তে ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ মাস্ক তৈরি করা হচ্ছে। মাস্ক বানানো সংস্থা গুলোর মধ্যে অন্যতম ডন-পলিমার। যার হাতে রয়েছে চীনের মাস্ক তৈরির ৪০ শতাংশ। বলা বাহুল্য, এই দুই মাসে ডন-পলিমারের শেয়ার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭ শতাংশ। কারণ দুই মাস আগ থেকেই মাস্ক বানাতে শুরু করে দিয়েছিলো এই সংস্থাটি। অংশীদারত্বের নিরিখে এই সংস্থার হাতে রয়েছে ১৯০ কোটি ডলার। যা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

স্পেকটেটর ম্যাগাজিনের একটি সূত্র বলছে, চীনে যে সময় করোনার মহামারী দেখা দেয় সেসময় ইতালি বিপুল পরিমাণে পিপিই সরবরাহ দিয়েছে চীনকে। তাও আবার বিনামূল্যে। কিন্তু ইতালির দূর্যোগের সময় এই চীন ইতালিকে পিপিইসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ দিচ্ছে মোটা অংকের বিনিময়ে। এতেই বোঝা যাচ্ছে চীন যে এই মহামারীকে বাণিজ্যিক হাতিয়ার বানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: