করোনা থেকে বাঁচতে আল্লাহকে ডাকুন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন-মাশরাফি!

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যা ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্বের সবকটি আক্রান্ত দেশ। চীনের পর ইতালি,স্পেন,ইরান,যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি.

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যা ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্বের সবকটি আক্রান্ত দেশ। চীনের পর ইতালি,স্পেন,ইরান,যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে৷

বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস৷ এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩৩ জন যার মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন চিকিৎসক। এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে ৩ জনের।

দেশের এমন অবস্থায় সকলের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ মাশরাফি বিন মর্তুজা। সকলকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং মহান আল্লাহ তা আলাকে স্বরণ করতে বলে একটি ভিডিও বার্তা নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করেন ম্যাশ।

এই ভিডিওতে তিনি বলেন, আসসালামুয়ালাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন, আসলে এই মূহুর্তে ভালো আছেন কথাটা বলা ঠিক কি না কারণ সবাই মানুষিকভাবে বিপর্যস্ত। তারপরেও কথা বলতে হবে, করোনাভাইরাস আমরা সবাই জানি অনেকে সোস্যাল মিডিয়াতে এবং যেখানেই যাবেন সেখানেই দেখবেন করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত এবং আতঙ্কিত না হওয়ারও কোনো কারণ নেই৷ পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় দেশগুলো এখন শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা কোনোভাবেই তা প্রতিহত করতে পারছে না।

আমার কি করণীয় উচিত বা আমাদের কি করণীয় উচিত কার‍ণ আমরা আজকে যত বড় বড় দেশগুলো দেখছি যেভাবে ভেঙে পড়ছে, আমাদের দেশটাতো এমনিতেই ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যদি এমন ক্রাইসিস আসে আল্লাহ না করুক কি হতে পারে আমরা সবাই বুঝতে পারছি। এ মুহুর্তে করণীয় অনেক কিছু আছে যেগুলো আমি মনে করি আমাদের সবারই করা উচিত।

এক হচ্ছে যে, আসলে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং আল্লাহর কাছে ডাকা যে আল্লাহ আমাদেরকে রহমত করুন৷ আমাদের এই ধরনের দূর্যোগ থেকে সহযোগিতা করুন যাতে না হয়। সবাই যেনো সুস্থ থাকে।

দ্বিতীয় জিনিস যেগুলো আমাদের করণীয় আছে সেটা হচ্ছে, অবশ্যই অবশ্যই প্রবাসী যারা ভাই-বোনেরা বিদেশে থাকেন, আসছেন দেশে বা যারা বিদেশে বেড়াতে গিয়েছেন দেশে ফিরে আসছেন আপনাদের কিন্তু অনেক কিছু করার আছে। প্রথম হচ্ছে নিয়ম-কানুনগুলো অবশ্যই মেনে চলা। কোয়ারেন্টাইন এই শব্দটা ব্যবহার না করে আমরা বলব যে গৃহবন্দী থাকা সেটা আপনি পরিবার নিয়ে না আপনি আলাদা ১৪ দিন থাকা এবং ১৪ দিন পার হওয়ার পরে যদি আপনি অসুস্থ না হন আপনার পরিবারকে নিয়ে ঘরে থাকা যতক্ষণ পর্যন্ত এই ঘোষণা আসছে ডক্টররা বা সমাজের যারা উচ্চপদস্থ আছেন উনারা ঘোষণা করছেন যে, ‘উই আর সেইফ’ অর্থ্যাৎ আমরা সসম্পূর্ণভাবে এখন সুরক্ষিত আছি ততক্ষণ পর্যন্ত ঘরে থাকা এটা হচ্ছে প্রথম বিষয়। এরপরে হচ্ছে আমাদের অনেক করণীয় আছে যেটা হচ্ছে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া নিয়মিত, নিয়মিত পানি পান করা পনেরো মিনিট অন্তর অন্তর। এবং আপনার ঘর, আপনার চারিপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এইসব নিয়ম-কানুন কিন্তু আছে। আমাদের উচিত এইসব নিয়ম-কানুন গুলো মেনে চলতে হবে৷ এর থেকে আরো কঠিন অবস্থায় গেলে কিন্তু আর নিয়ম মেনে চললে তখন আর সুযোগ আমরা পাব না। আমাদের উচিত এখন থেকেই এই জিনিসটাকে শক্ত হাতে প্রতিহিত করা। কারণ কি এটা একটা রাষ্ট্র ক্রাইসিস হয়ে যেতে পারে। এবং আমরা কেউই জানি না আমাদের আশেপাশে কারা আছেন, আমরা যে বের হচ্ছি, আমরা কার হাত ধরছি, কি করছি কেউই জানি না যে এই ভাইরাসটা কে নিয়ে চলছে পথে আমরা কেউই কিন্তু জানি না। কারণ এই ভাইরাসটা প্রায় ১৪ দিন সময় নিবে আপনি বোঝার জন্য তো আমার কাছে মনে হয় যে, এটা গভীরভাবে চিন্তা করার ব্যপার। আমরা যেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না সেটা যদি আকর্ষিকভাবে আমাকে, আপনাকে, আপনার পরিবারকে বা সামাজিকভাবে আঘাত করে এটা কিন্তু সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে।

ইতালির মতো দেশ বড় বড় দেশ ইংল্যান্ড বলেন, স্পেন বলেন সব বড় বড় দেশগুলো চায়না বলেন বড় বড় দেশগুলো কিন্তু হিমশিম খেয়েছে এবং খাচ্ছে। সেখানে আমরা কতটুকু পারবো সেটা ভাবার সময় এসেছে। কারণ দেশটা অনেক ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি তো এখানে কিন্তু ভাবার সময় আছে।

তো আমাদের যে করণীয় জিনিসগুলো আছে আমরা করি। সেটা করা খুবই প্রয়োজন। একটা কথা মনে রাখবেন আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন কিন্তু এখন আপনি নিজেই৷ আপনি যদি আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন্সি ঠিকমতো করতে পারেন আমি সিউর যে, আমরা কিছুটা হলেও কমাইতে পারব। নয়তো কিন্তু ডিসাস্টার হওয়ার চান্স খুব বেশি।

আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা ঘরে থাকুন, প্লিজ প্লিজ প্লিজ ঘরে থাকুন। আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকুন, আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন, আপনার সমাজকে সুরক্ষিত রাখুন। এটা আমার দায়িত্ব, আপনার দায়িত্ব, সবার দায়িত্ব। এই মূহুর্তে আমরা কোনোভাবেই এফোর্ড করতে পারি না বাইরে আসা, কোনোভাবেই এফোর্ড করতে পারি না বিনা কারণে বাইরে আসা।

আমরা সবাই বলি আমরা অনেক সময় আমরা সময় পাই না আমাদের কাজের ব্যস্ততায় আমাদের পরিবারকে সময় দেয়া। তো আপনি এখন সময় দিন। আপনার পরিবারকে এখন সময় দিন। এখন আপনার কোনো কাজের ব্যস্ততা নেই আপনি সময় দেন আর যারা আছেন তারা চেষ্টা করুন যে যেই জায়গা থেকে পারেন চেষ্টা করুন একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন যতটুক না করলেই না কিন্তু তারপরও আমি বলবো, ‘স্টে অ্যাট হোম’ অর্থ্যাৎ ‘ঘরে থাকুন’। আপনার সমাজকে আপনি রক্ষা করুন। ভালো থাকুন সবাই, আসসালামুয়ালাইকুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: