ব্রেকিং নিউজ!! করোনাভাইরাস? গত ২৪ ঘন্টায় ৮ জনের মৃত্যু!

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ জন। এদিকে সারা দেশে করোনার উপসর্গ.

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ জন।

এদিকে সারা দেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু ঘটেছে।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। মৃত ওই ব্যক্তির বয়স ছিলো ৫০ বছর। রবিবার (৫ এপ্রিল) ওই ব্যক্তি মারা যায় বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকায় তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মৃত ওই ব্যক্তি নতুন মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। পরে তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে মরদেহ দাফনের ব্যাপারটি।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে জ্বর,সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তির বয়স ৭৫ বছর। মৃত ওই ব্যক্তির নাম জিল্লুর রহমান। রবিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সেনপাড় এলাকায় ওই বৃদ্ধ মারা যায়। তার মৃত্যুর পর তার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মৃত ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টিম। নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মাদারিপুরের কালকিনিতে আবদুস সালাম ফকির (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। মৃত ব্যাক্তি কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের চরআলিমাবাদ গ্রামের সদর আলির ছেলে।

কয়ারিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ৩ টার দিকে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাকে ফোন দিয়ে আমার ওয়ার্ডের এক ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিলে আমি রাতেই সেখানে যাই। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, বিকালে তিনি বাড়ির পাশের দোকানে ছিলেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর বাড়ি এলে জ্বর ও গলা ফুলে যায়। স্থানীয় একজন চিকিৎসককে আনা হলে তিনি ঔষুধ দেন। পরবর্তীকালে রাত ১২ টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোণাচরণ দাস নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার বয়স ছিল ৭০ বছর। গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

তার পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে গলাব্যথা নিয়ে পল্লী চিকিৎসকের থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে সেরে না উঠলে পরিবারের লোকজন বৃহস্পতিবার জ্বর ও সর্দির ঔষুধ নিতে ওই চিকিৎসকের বাড়িতে যান। তখন চিকিৎসক তাদের জানায়, তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু রবিবার তিনি ১১ টার দিকে মারা যান।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে করোনা সন্দেহে লকডাউনে থাকা এক পরিবারের একজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম আলেক খান এবং তার বয়স ৫৫ বছর। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে মৃত ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করে।পরে তাদের ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে মৃত ওই ব্যক্তির শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে শনিবার (৪ এপ্রিল) সাতটি পরিবারকে লকডাউন করে রাখে জেলা প্রশাসন।

নেত্রকোনার পূর্বধলায় এ রোববার (৫ এপ্রিল) করোনার লক্ষণ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু ঘটে। মৃত ওই নারীর নাম নূরুন্নাহার তার বয়স ৪৫ বছর।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খোকন জানান, গত৷ দুইদিন ধরে ওই নারীর হালকা জ্বর ও কাশি ছিল। হঠাৎ করে শনিবার থেকে তার শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এমন অবস্থায় রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোর রাত ৪ টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন ঘনাস্থলে গিয়ে আশেপাশের বাড়িগুলো লকডাউন করে দেয়।

(ইউএনও) উম্মে কুলসুম জানায়, মৃত ব্যাক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের কুশশাখালি গ্রামের মো.রনি মিয়া নামের এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। শনিবার বিকেলে মারা যান রনি মিয়া। শনিবার (৪ এপ্রিল) রনি মিয়া শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ করিমগঞ্জের আ. হামিদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যান। পরে বিকেলে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান।

এ প্রসঙ্গে করিমগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রিয়াদ শাহেদ রনি জানান, খবর পেয়ে মৃত ওই ব্যক্তির শরীরে করোনার উপস্থিতি আছে কি না তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে করিমগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিমা নূর হোসেন জানান, রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত ওই পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

করোনার উপসর্গ নিয়ে বাগেরহাটে জামায়াত আমির নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বাগেরহাটের রামপালে বসবাসরত ওই ব্যক্তির বয়স ছিলো ৬০ বছর। এদিকে জামায়াত আমিরের মরদেহ গোসল ও যারা কবর দিয়েছে তাদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুকান্ত কুমার পাল জানান, উপজেলা জামায়াতে আমির শেখ নাসির উদ্দিন শ্রীফতলায় নিজ বাড়িতে তিনি বেশ কয়েকদিন যাবত করোনার উপসর্গে ভুগছিলেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে খুলনার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। তার স্বজনেরা বিষয়টি প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে না জানিয়ে লাশটি তার জন্মস্থান বর্ণি-সায়েদাবাদ গ্রামে নিয়ে দ্রুত গোসল ও জানাযা শেষে সেখানে দাফনের আয়োজন করতে থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সেখানে পৌঁছালেও লাশ দাফন হয়ে গেলে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র-Bd24report

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: