করোনাভাইরাসের তান্ডব থেকে রক্ষা পাবে বাংলাদেশ!! কারণগুলো জেনে নিন!

সারা বিশ্বে চলছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। করোনাভাইরাসের প্রকোপে অচল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। চীন ছাড়িয়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের.

সারা বিশ্বে চলছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। করোনাভাইরাসের প্রকোপে অচল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। চীন ছাড়িয়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২ প্রায় শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে। এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৭ জন এবং এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৩ হাজার ২১৮ জন।

বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসটি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৫৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে ৬ জনের।

তবে করোনাভাইরাসকে মরণঘাতী ভাইরাস মনে করা হলেও গবেষকদের মতে এটি মরণঘাতী না। করোনা আক্রান্ত মানেই যে মৃত্যু নিশ্চিত তা কিন্তু নয়। সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায় এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৩-৪ শতাংশ। তার মানে এই দাঁড়ায় যে ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯৭ জন। এটা মোটামুটি সারা বিশ্বের হিসাব। তবে এই ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশের জন্য আশার বাণী আশার বাণী শোনাচ্ছেন গবেষকরা। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট কিছু কারণে এই ভাইরাসের তান্ডব থেকে বেঁচে যেতে পারে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে প্রথমটি হলোঃ-

১. উষ্ণ আবহাওয়াঃ- প্রায় সব গবেষকরাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, উষ্ণ আবহাওয়া ভাইরাসটির গতি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। এমআইটি থেকে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে এটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না। একি বিষয়ে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় চিকিৎসক জি পি নাগেশ্বর রেড্ডি। বাংলাদেশে বর্তমানে বিরাজ করছে চৈত্রের তীব্র গরম। মে মাসের শেষ পর্যন্ত যা উত্তরাত্তর বাড়বে। সে ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস বাংলাদেশে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারবে না।

২. বিসিজি টিকাঃ- বলা হচ্ছে, যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য দেওয়া বিসিজি টিকা সুরক্ষা দিবে করোনাভাইরাস থেকে। মেডআর্কাইভ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমন তথ্য দিয়েছে। ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয় বিসিজি টিকা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম নেদারল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশে প্রচলিত নেই এই টিকা দান কর্মসূচি।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ- বাংলাদেশের মানুষেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অন্যসব দেশের মানুষদের থেকে বেশি। তাছাড়াও ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের দূষিত পরিবেশই আর্শিবাদ হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিবেশের কারণেই ইউরোপে-আমেরিকার মানুষদের চেয়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। যার কারণে ইউরোপ-আমেরিকার মতো এতো বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত নাও হতে পারে।

৪. প্রথমেই ব্যবস্থা নেওয়াঃ- বাংলাদেশে ধীর গতিতে নমুনা পরীক্ষা করা হলেও শুরুতেই করোনা মোকাবিলায় জোরদার পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যা করতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি,যুক্তরাষ্ট্র,স্পেনের মতো দেশ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও ইতালিতে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। যার ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এতো তীব্র হয়ে উঠে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যায়িত করে হেয়ালি চোখে দেখেছে। যার কারণে লকডাউন দিতে এতো দেরী।

৫. ন্যাচারাল এন্টিবডি তৈরিঃ- করোনাভাইরাস সবসময় একই গতিতে সংক্রমণ ছড়াবে তা নয়। আস্তে আস্তে এই ভাইরাস তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। যার কারণ হলো, আক্রান্তদের শরীরে ততোদিনে তৈরী হবে ন্যাচারাল এন্টিবডি, যা আক্রান্ত বাকিদেরকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এছাড়াও সময় যতো গড়াবে ততোদিনে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ন্যাচারাল ইমিউনিটি বা প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়াল তৈরি হবে। এদিকে থেকে বিবেচনা করলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে চীনের উহানে ছড়ানোর প্রায় ৪ মাস পর। যার ফলস্বরূপ হিসেবে ন্যাচারাল ইমিউনিটি পাবে বাংলাদেশ।

৬. ধুমপান ও মদ্যপানঃ- ভারতে অবস্থিত এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি (এআইইজি) এর চেয়ারম্যান ও পদ্মভূষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক জি পি নাগেশ্বর রেড্ডি জানান, ইতালি কিংবা ইউরোপের দেশগুলোতে এতো বেশি মানুষ মারা যাওয়ার একটা কারণ আছে, যেটা আমাদের উপমহাদেশে খুব একটা নেই। ওইসব দেশের অধিকাংশ বৃদ্ধরাই মদ্যপায়ী। এর পাশাপাশি তাদের রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। তাই আক্রান্ত হওয়ার পর তারা সেখানে থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি।

৭. মানসিক স্বাস্থ্যঃ- ভারতীয় চিকিৎসক নাগেশ্বর রেড্ডি জানান, যারা মানুসিকভাবে শক্ত ও সুখী, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি থাকে। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ এ জন্য এগিয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি। তিনি আরো বলেন, হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই, ভয় পাবেন না, ঘরে বসে নিজের স্বাধীনতা উপভোগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: