রাকিবুলের বোলিং ঘূর্ণিতে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ আফ্রিকা!! সেমিফাইনালে বাংলাদেশ!

একের পর এক দূর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে যুব বিশ্বকাপে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের যুবারা। আজ ৩০ (জানুয়ারি) কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ.

একের পর এক দূর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে যুব বিশ্বকাপে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের যুবারা। আজ ৩০ (জানুয়ারি) কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জিতলে সেমিফাইনালের টিকেট ধরা হয়ে যাবে যুবাদের৷ এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে টাইগার যুবারা।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দূর্দান্ত করে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন৷ ইমন কিছুটা ধীর গতিতে খেলতে থাকলেও তানজিদ ছিলেন তার নিজের ছন্দে৷ দলীয় ৬০ রানের মাথায় ভাঙ্গে এই ওপেনিং জুটি। ৪০ বলে ১৭ রান করে ফিরেন ইমন৷ এরপর তানজিদের সাথে জুটি ধরতে ব্যর্থ মাহমুদুল হাসান জয়৷ মাত্র ৩ রান করে ফিরেন তিনি। ক্রিজে আসেন তৌহিদ হৃদয়। দেখান ব্যাটিং জাদু। তানজিদের সাথে জুটি বেঁধে করেন দূর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি। অন্যদিকে তানজিদ হাসান তামিম খেলেন অসাধারণ একটি ইনিংস। ৯৫.২৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা তানজিদ করেন ৮৪ বলে ৮০ রান। এর জন্য তার দরকার হয়েছে ১২টি চার এর মার। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় আউট হন তিনি। ক্রিজে থাকা হৃদয়ের সাথে আরো একটি অসাধারণ জুটি বাঁধেন শাহাদাত হোসেন৷ এই দুই জনের ব্যাটে বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরতে থাকে৷ দলীয় ২৩২ রান রানের সময় আউট হন হৃদয়। ৭৩ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। এদিকে ৯৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা শাহাদাত ব্যাট ঘুরাতে থাকেন৷ ৭৬ বলে ৭৪ রানের একটি দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন শাহাদাত। ৭ টি চার এবং ছক্কা হাঁকান তিনি৷ এতে করে দলের স্কোর দাঁড়ায় ২৬১ রান ৫০ ওভারে।

এ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই টাইগারদের বোলিং তোপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা৷ দলীয় ৩৪ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে আঘাত হানে তানজিম হাসান সাকিব। খানেয়া কোটানির উইকেট তুলে নেয় তানজিম হাসান। এর কিছুক্ষণ রাকিবুলের আঘাত। এবার জোনাথান বার্ডকে সাঝঘরে ফিরান রাকিবুল। ৩৯ বলে ৩৫ রান করে আউট হন বার্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার দলীয় ৬৯ রানে রাকিবুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ব্রেইস পারসন্স৷ দলীয় ৭৭ রানে তানজিম হাসান সাকিবের আঘাত। এবার ফিরে যান কারেলসে। এদিকে লুক বিউফোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে হাল ধরেন দলের রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন৷ প্রোটিয়াদের দলীয় ১১৩ রানের জ্যাক লিসকে প্যাভিলিয়নে পাঠান শরিফুল ইসলাম।এদিকে বিউফোর্ট তুলে নেন অর্ধশতক৷ এর পর একের পর এক উইকেট হারায় প্রোটিয়া যুবারা৷ রাকিবুলের বোলিং তান্ডবে ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার যুবারা৷ ফলে ১০৪ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এর মাধ্যমে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা৷

বাংলাদেশের হয়ে ৯.৩ ওভার বোলিং করে ৫ উইকেট তুলে নেন রাকিবুল হাসান। তার ইকোনমি রেট ছিলো ২.০০। ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠে রাকিবুলের হাতেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: