সাকিব-লিটনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে বিশাল জয় টাইগারদের!

টনটনে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।.

টনটনে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম থেকেই চাপে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে প্রথম হানা দেয় মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। দূর্দান্ত এক স্পেলে ইউনিভার্সাল বস ক্রিস গেইলকে সাঝ ঘরে ফেরান সাইফুদ্দিন। গেইল ফিরে যান ১৩ বলে কোনো রান না করেই। শুরুতেই চাপে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপমুক্ত করতে জুটি বাঁধেন ইভেন লুইস ও সাই হোপ। দুইজনই তুলে নিলেন তাদের অর্ধশতক। দলীয় ১২২ রানে গিয়ে থামে এই দুইজনের জুটি। ভয়ংকর হয়ে উঠা লুইসকে ফিরান সাকিব আল হাসান। ৬৭ বলে ৭০ রান করে আউট হন লুইস। এরপর নিকোলাস পুরানকে নিয়ে আবারো জুটি বাঁধেন সাই হোপ। কিন্তু সেই জুটি বেশিক্ষন ক্ষনস্থায়ী হতে পারলো না। দলীয় ১৫৯ রানের সময় নিকোলাস পুরানের উইকেটটি তুলে নেন সাকিব। ৩০ বলে ২৫ রান করে আউট হন পুরান।

এরপর হেটমেয়ার ও সাই হোপ বেশ চওড়া হতে থাকেন বাংলাদেশের বোলারদের জন্য। হেটমেয়ার খেলেন মারমুখি ভঙ্গিতে। বাংলাদেশের বোলারদের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন হেটমেয়ার এবং হোপ। মাত্র ২৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন হেটমেয়ার। এরপরের বলেই আউট হয়ে যান সিমরন হেটমেয়ার। হেটমেয়ারকে প্যাবিলিয়নের পথ দেখান মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর দলীয় রান তখন ২৪২। স্ট্রাইকে নামলেন আন্দ্রে রাসেল। নেমেই মোস্তাফিজের বলে ধরা খেলেন রাসেল। মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে ২ বলে ০ রান করে আউট হয়ে যান রাসেল। এরপর স্ট্রাইকে আসেন উইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। নেমেই চার-ছক্কার তান্ডব চালালেন হোল্ডার। ১৫ বলে ৩৩ রান করা হোল্ডারকে থামালেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। উইন্ডিজের দলীয় ২৮২ রান তখন ৬ উইকেট হারিয়ে। উইন্ডিজের দলীয় ২৯৭ রানের সময় নিজের কাঙ্খিত শতকের দিকে পা বাড়ানো সাই হোপকে আউট করে দিলেন ‘দ্যা ফিজ’। ১২১ বলে ৯৬ রান করে ফিরে যান সাই হোপ। এরপর ড্যারেন ব্রাভো ও ওশান থমাস মিলে উইন্ডিজের দলীয় রান দাঁড় করায় ৩২১। ৩৯.৫ বলের সময় ওশেন থমাসের উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ফলে ৩২১ রানের বিশাল টার্গেট দেয় উইন্ডিজ।

বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজ ও সাইফুদ্দিন ৩ টি করে উইকেট তুলে নেন এবং সাকিব তুলে নেন ২ টি উইকেট।

৩২২ রানের বিশাল রান তাড়া করতে নেমে দারুণ ছন্দে খেলতে থাকেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু দলীয় ৫২ রানে সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আন্দ্রে রাসেলের বলে ক্রিস গেইলের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যান সৌম্য৷ ২৩ বলে ২৯ রান করেন সৌম্য সরকার৷ সাকিব আল হাসানকে সাথে নিয়ে তামিম ইকবালের জুটি। কিন্তু এই জুটিও সফল হতে পারলো না। দলীয় ১২১ রানের সময় তামিম ইকবালের উইকেট হারিয়ে কিছুটা পড়ে বাংলাদেশ। শেল্ডন কটরেলের বলে রান আউট হয়ে যায় তামিম। ৫৩ বলে ৪৮ রান করেন তামিম। তামিমের আউটের পরে মুশফিকের আগমন। কিন্তু মুশফিকও হাটলেন তামিমের পথে। মাত্র ৫ বলে ১ রান করে আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। ওশানে থমাসের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন মুশফিক। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে চরম বিপর্যয় নামে।

এদিকে নিজের অর্ধশতক পূরণ করলেন সাকিব আল হাসান। এর মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সাকিবের সাথে দূর্দান্তভাবে সঙ্গ দিতে থাকে মিথুনের পরিবর্তে নামা লিটন দাস। সাকিব এবং লিটন দাস মিলে গড়ে ১০০ রানের পার্টনারশীপ। বাংলাদেশের বিপর্যস্ত ব্যাটিংয়ের খুঁটি তৈরি করেন সাকিব এবং লিটন দাস। এদিকে দূর্দান্তভাবে খেলতে থাকা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তুলে নেন তার টানা দ্বিতীয় শতক। ৮৫ বলে শতক পূরণ করেন সাকিব। সাকিবের পরে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন লিটন কুমার দাস। এরপর উইন্ডিজ বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করতে থাকে সাকিব ও লিটন। মারমুখী ভঙ্গিতে খেলে বাংলাদেশকে নিয়ে যায় জয়ের দোরগোড়ায়। ফলে হাতে ১৪ ওভার বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বিশাল জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা।

৮ ওভার করে ৫৪ রান দিয়ে দুই উইকেট তুলে নেন সাকিব এবং ৯৯ বলে অপরাজিত ১২৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: