মুশফিকের স্বস্তির সেঞ্চুরির দিনেও বাংলাদেশের হার!!

নটিংহামে আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অজি.

নটিংহামে আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।

ব্যাটিংয়ে নেমেই বাংলাদেশের বোলারদের উপর চওড়া হয়ে উঠে অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। ৫৫ বলে নিজের কাঙ্খিত অর্ধশতক তুলে নেন ওয়ার্নার। এরপর দলীয় ১১৬ রানের সময় ৪৭ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন অ্যারন ফিঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ার দলীয় ১২১ রানের সময় ভয়ংকর হয়ে উঠা ফিঞ্চকে সাঝঘরে ফিরান সৌম্য সরকার। রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে ৫১ বলে ৫৩ রান করে আউট হয় ফিঞ্চ। ফিঞ্চের উইকেটের পর কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য ছিলো ডেভিড ওয়ার্নার। ১১০ বলে বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন ওয়ার্নার। ওয়ার্নার ও ওসমান খাজা বাংলাদেশের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। ৫০ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন ওসমান খাজা।

একের পর এক বাউন্ডারি হাকিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। এদিকে ডেভিড ওয়ার্নার করেন ১৩৯ বলে দেড়শত রান। দলীয় ৩১৩ রানের সময় ওয়ার্নারের উইকেট তুলে নেন সৌম্য সরকার। ১৪৭ বলে ১৬৬ রানের দূর্দান্ত একটি ইনিংস খেলে আউট হন ওয়ার্নার। ১৪ টি চার এবং ৫টি ছক্কা হাঁকান ওয়ার্নার। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল স্ট্রাইকে এসে চালায় ব্যাটিং তান্ডব। ১০ বলে ৩২ রান করে রান আউট হন ম্যাক্সওয়েল।

এরপর একি ওভারে ওসমান খাজার উইকেট তুলে নেন সৌম্য সরকার। মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে ৭২ বলে ৮৯ রান করে আউট হন খাজা। এরপর দলীয় ২৫৪ রানের সময় স্টিভ স্মিথকে ফেরান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। মোস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান স্মিথ। এরপর ৪৯ তম ওভারে ম্যাচে হানা দেয় বৃষ্টি। ফলে ৪৯ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ৩৬৮ রান করে ৫ উইকেট হারিয়ে। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামলে খেলা আবারো শুরু হয়। ফলে ৫০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৮১ রান ৫ উইকেট হারিয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৮ ওভার করে ৫৮ রান দিয়ে ৩ টি উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ দলের পার্টটাইম বোলার সৌম্য সরকার। মোস্তাফিজ নেন একটি উইকেট।

বিশাল রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করে তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। কিন্তু দলীয় ২৩ রানে রান আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার । তার উইকেটের পর বাংলাদেশ পড়ে চরম বিপদে। সাকিব এবং তামিম ধরেন স্বস্তির জুটি। তাদের জুটি বাংলাদেশের রানকে নিয়ে যায় ১০২ রানে। কিন্তু দলীয় ১০২ রানের সময় আউট হয়ে যান সাকিব। মারকুস স্টনিসের বলে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ তুলে ৪১ বলে ৪১ রান করে আউট হন সাকিব। সাকিবের আউটের পর চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন তামিম ইকবাল। কিন্তু দলীয় ১৪৪ রানের সময় আউট হয়ে যান তামিম। ৭৪ বলে ৬২ রানের একটি অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে আউট হন তামিম। তামিমের আউটের পর আবারো বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আসে চরম বিপর্যয়।

মুশফিকের সাথে লিটন দাস জুটি বাঁধার চেষ্টা করলেও সেটিও সফল হয়ে উঠেনি। দলীয় ১৭৫ রানের সময় আউট হয়ে যায় লিটন দাস। ১৭ বলে ২০ রান করে অ্যাডম জাম্পার বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান লিটন। লিটনের যাওয়ার পর মাহমুদুল্লাহকে সাথে নিয়ে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। তুলে নেন চলতি বিশ্বকাপের তার প্রথম অর্ধশতক। মুশফিকের পর অর্ধশতকের দেখা পান মারমুখী ভঙ্গিতে খেলা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে দলীয় ৩০২ রানের সময় ভেঙে যায় মুশফিক – মাহমুদুল্লাহ জুটি। কোল্টার নিলের বলে ক্যাচ তুলে ৫০ বলে ৬৯ রানের একটি ঝড় ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৩ টি বিশাল ছক্কা এবং ৫ টি চার মারেন তিনি। তার পরের বলেই আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। কোল্টার নিলের বলে বোল্ড হয়ে ১ বলে ০ রানে ফিরে যান সাব্বির। এরপর দলীয় ৩২৩ রানের সময় আউট হয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যেতে লাগলো। এদিকে মুশফিকুর রহিম তুলে নেন বিশ্বকাপে তার প্রথম শতক। খেলার শেষ বলে আউট হয়ে যান মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফলে ৪৮ রানের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে মুশফিক ছিলেন অপরাজিত ৯৭ বলে ১০২ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক, মার্ক স্টয়নিস এবং কোল্টার নিলে ২ টি করে উইকেট তুলে নেন। অ্যাডম জাম্পা ১টি উইকেট তুলে নেন।

১৪৭ বলে ১৬৬ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: