বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা হয়ে গেলো দূরআশা!!!

এজবাস্টনে নিজেদের ‘ডু অর ডাই ‘ ম্যাচে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের অধিনায়ক.

এজবাস্টনে নিজেদের ‘ডু অর ডাই ‘ ম্যাচে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি।

শুরু থেকেই দাপুটে ব্যাটিং করতে থাকে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। তবে ৫ তম ওভারে সুযোগ আসে ভয়ংকর রোহিত শর্মাকে সাঝ ঘর ফিরানোর৷ মোস্তাফিজের বলে লেগ সাইডে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত। কিন্তু সেই ক্যাচ মিস করেন সেখানে ফিল্ডিংয়ে থাকা তামিম ইকবাল। ক্যাচ মিস করার পর থেকে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠে রোহিত শর্মা। ভারতের এই দুই ওপেনার মিলে জুটি বাঁধেন ১৮০ রানের। লোকেশ রাহুলও তুলে নেন অর্ধশতক। সেঞ্চুরি তুলে নেন রোহিত শর্মা। সেঞ্চুরি করে সৌম্য সরকারের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান রোহিত শর্মা। ৯২ বলে ১০৪ রান করে ফিরেন রোহিত। ৫ টি ছক্কা এবং ৭ টি চার মারেন তিনি। এরপর ভারতের দলীয় ১৯৫ রানের সময় লোকেশ রাহুলের উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। ৯২ বলে ৭৭ রান করে আউট হন রাহুল। এরপর ভিরাট কোহলি ও রিশভ পন্ত মিলে জুটি লম্বা জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের জুটি লম্বা হওয়ার আগেই ভেঙে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজের বলে রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন ভিরাট কোহলি। ২৭ বলে ২৬ রান করে ফিরেন কোহলি। একি ওভারে এক বল পরেই স্লীপে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যায় স্ট্রাইকে নামা হার্দিক পান্ডিয়া। ২ বলে কোনো রান না করেই ফিরে যান পান্ডিয়া। এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে কিছুটা বিপাকে ফেলে মোস্তাফিজ।

পান্ডিয়ার উইকেটের পর ধোনি ও পন্ত মিলে জুটি বাঁধেন ৪০ রানের। রিশভ পন্ত খেলছিলেন মারমুখী ভঙ্গিতে। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চলেছিলেন পন্ত। ভয়ংকর হয়ে উঠা পন্তকে থামান সাকিব আল হাসান। ৪১ বলে ৪৮ রান করে আউট হন পন্ত। ৬ টি চার এবং ১ টি ছক্কা হাঁকান পন্ত। এরপর স্ট্রাইকে নামা দীনেশ কর্তিককেও টিকতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ২৯৮ রানের সময় ৯ বলে ৮ রান করে ফিরে যান কার্তিক। এরপর ৪৯ তম ওভারে আবারো ঘূর্ণি দেয় মোস্তাফিজ। এবার শিকার করলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। মোস্তাফিজের বলে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান ধোনি। ৩৩ বলে ৩৫ রা করে আউট হন ধোনি। এরপর ৪৯ তম ওভারের ৪ বলের সময় রান আউট হয়ে যান ভুবনেশ্বর কুমার। ইনিংসের শেষ বলে মোহাম্মদ শামিকে বোল্ড আউট করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে পঞ্চম উইকেট তুলে নেওয়ার রেকর্ড গড়েন ফিজ। ভারতের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩১৫ রান ৯ উইকেট হারিয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজ তুলে নেন ৫ টি উইকেট। সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান এবং রুবেল হোসেন তুলে নেন একটি করে উইকেট।

৩১৮ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩৯ রানের সময়ই তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩১ বলে ২২ রান করে আউট হন তামিম। তামিমের উইকেটটি তুলে নেন মোহাম্মদ শামি। সৌম্য সরকার এবং সাকিব আল হাসান মিলে জুটি বাঁধার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সেটিও আর হয়ে উঠলো না। বাংলাদেশের দলীয় ৭৪ রানে আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার। ৩৮ বলে ৩৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে আউট হন সৌম্য। মুশফিকুর রহিম ও সাকিব রইলো স্বস্তির জুটির আশায়। কিন্তু দলীয় ১২১ রানের সময় আবারো হতাশা বাংলাদেশ দলের জন্য। ২৩ বলে ২৪ রান করে যুযবেন্দ্র চাহলের বলে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যায় মুশফিকুর রহিম। ১২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সাকিব এবং লিটন দাস মিলে দলীয় রান নিয়ে গেলো ১৬২ তে। সাকিব তুলে নিলো আরো একটি অর্ধশতক। তবে ১৬২ রানের সময়ই আউট হয়ে যান লিটন দাস৷ ২৪ বলে ২২ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ক্যাচ আউট হন লিটন৷

স্ট্রাইকে এলেন মোসাদ্দেক হোসেন। সাকিবের সাথে তিনিও টিকতে পারলেন না ক্রিজে। দলীয় ১৭৩ রানের সময় জাস্প্রিত বুমরাহ এর বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান মোসাদ্দেক। ৭ বলে মোসাদ্দেকের সংগ্রহ ৩ রান৷ এরপরেই আউট হয়ে যান সাকিব আল হাসান। দলীয় ১৭৯ রানে ৭৪ বলে ৬৬ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন সাকিব। সাকিবের উইকেটটি তুলে নেন হার্দিক পান্ডিয়া৷ সাব্বির রহমান এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের মারমুখি জুটি কিছুটা আশার আলো ছড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। সাব্বির এবং সাইফুদ্দিন মিলে ধরেন ৫০ রানের জুটি। কিন্তু ২৪৫ রানের সময় ভেঙে যায় সাব্বির – সাইফুদ্দিন জুটি। জাস্প্রিত বুমরার বলে ৩৬ বলে ৩৬ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাব্বির। এরপর স্ট্রাইকে নামলেন মাশরাফি খেললেন ৫ বল করলেন ৮ রান হাঁকালেন ১ টি ছক্কা। তার পরের বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান মাশরাফি। ভুবনেশ্বর কুমার তুলে নিলেন মাশরাফির উইকেটটি।

রুবেল এবং সাইফুদ্দিন খেললেন কিছুটা ধৈর্য সহকারে। সাইফুদ্দিন তুলে নিলেন তার অর্ধশতক। সাইফুদ্দিনের ৫০ বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিলো প্রায় জয়ের কাছাকাছি। কিন্তু দলীয় ২৮৬ রানের সময় জাস্প্রিত বুমরাহ এর বলে বোল্ড আউট হয়ে যান রুবেল হোসেন। এরপরের বলেও বোল্ড হয়ে যান স্ট্রাইকে নামা মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে বাংলাদেশ হারায় ১০ উইকেট ২৮৬ রানে এবং ভারত তুলে নেয় ২৮ রানের জয়। এ জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো ভারত এবং বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা হয়ে গেলো দূরআশা।

ভারতের হয়ে জাস্প্রিত বুমরাহ ৪ টি, হার্দিক পান্ডিয়া ৩ টি এবং ভুবনেশ্বর কুমার, যুযবেন্দ্র চাহল ও মোহাম্মদ শামি নেন ১ টি করে উইকেট।

৯২ বলে ১০৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রোহিত শর্মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: