‘দ্যা ফিজ’ নামে খ্যাত মোস্তাফিজকে নিয়ে সমালোচনা কতটা যুক্তিযুক্ত?

বাংলাদেশের বোলিং এ্যাকশনে মোস্তাফিজুর রহমান এনে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা। আর সেই মোস্তাফিজকেই শুনতে হচ্ছে সমালোচকদের তিক্ত কথা। অভিষেকের পর.

বাংলাদেশের বোলিং এ্যাকশনে মোস্তাফিজুর রহমান এনে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা। আর সেই মোস্তাফিজকেই শুনতে হচ্ছে সমালোচকদের তিক্ত কথা। অভিষেকের পর থেকেই উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলে ছিলেন এই কাটার মাস্টার। তার প্রতিভায় মুগ্ধ যেনো গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ডাক পেয়েছেন আইপিএল এর মঞ্চে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এর হয়ে তার প্রথম আইপিএলেই তুলে নিলেন ট্রফি। ক্রিকেট জগতে তার নামকরণ করা হয় ‘দ্যা ফিজ’ নামে। কিন্তু হঠাৎ ইঞ্জুরির কারণে তার ছন্দটা কেমন যেনো নড়েচড়ে হয়ে যায়। তবুও তিনি অসাধ্য চেস্টা করে যান উইকেট কম পেলেও আগের তুলনায় ডেথ ওভারে তার বোলিং ছিলো অসাধারণ। বিপিএলে এবারের রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলেন তিনি। ডেথ ওভারে তার বোলিং এর উপর ভরশা করেই অনেক বার জয়ের মুখ দেখেছে রাজশাহী। এ বছরই আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

তার পরে আসে নিউজিল্যান্ড সিরিজ। সেখানে খুব একটা ভালো যায়নি মোস্তাফিজের। বলের তুলনায় দিয়েছেন অধিক রান। তার পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। অথচ এটি কিন্তু প্রথমবার নয় ক্যারিয়ারের ওয়ানডেতে ৪৩ ইনিংসে ৫০ এর বেশি রান দিয়েছেন ১২ বার। ১০ বার ছিলো গত দুইবছরের। ইকোনমি রেট ৪ কিংবা তার নিচে ছিলো ১৬ বার।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বোঝা যায় মোস্তাফিজের অসাধারণ বোলিং এর কথা। ২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে ৫ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ টি উইকেট। ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো ভুগিয়েছেন তিনি। ইকোনমি রেট ছিলো তিন এর কাছাকাছি। এশিয়া কাপে ফিজের ইকোনমি ছিলো ৪.৪০। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও করেছেন দূর্দান্ত বোলিং। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলার পেছনে তার অবদান ছিলো ব্যাপক। তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের যৌথ সর্বোচ্ছ উইকেট শিকারি বোলার। এছাড়াও লাসিথ মালিঙ্গার পরে মোস্তাফিজুর রহমান একমাত্র বোলার যিনি ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্ছ ১১ বার হ্যাট্রিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

প্রশ্ন হচ্ছে সমালোচনাটা কি নিয়ে? ওভারে বেশী রান দেওয়া নিয়েই মূলত হচ্ছে সমালোচনা। এদিকে সাকিব আল হাসান উড়িয়ে দিলেন সমালোচনাকে। তিনি বললেন, মোস্তাফিজকে শুধু নিরেট রান দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। সে কোথায় বল করছে সেটা দেখতে হবে।

এদিকে কোচ স্টিভ রোডসও দিয়েছেন মোস্তাফিজের সঙ্গ। তিনি জানিয়েছেন, মোস্তাফিজকে নিয়ে তিনি চিন্তিত নয়। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে তার ব্যাপারে। সে ওয়ানডে রাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে ছিলো। বাংলাদেশের বেশি খেলোয়াড় নেই যারা সেরা পাঁচে থাকতে পেরেছে। হ্যাঁ, আরেকটু ধারাবাহিক হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: