দূর্দান্ত ফাইনাল জয়ে ইতিহাস গড়লো টাইগাররা!

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টসে জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়েস্ট.

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টসে জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয় দূর্দান্তভাবে। সাই হোপ এবং সুনিল এমব্রিসের ওপেনিং জুটি বিপদ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য। ২০.১ ওভারে এই জুটি ১৩১ রানের বিশাল জুটি। আর এই সময়ই মাঠে নেমে আসে বৃষ্টি। কিছুটা সংকটে পড়ে ম্যাচটি। বাংলাদেশ সময় ১০ টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরু হয়। বৃষ্টি আইনে ওভার কমিয়ে ২৪ ওভারে আনা হলো। ম্যাচ শুরুতে ২২.৪ বলের সময় সাই হোপের উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর দলীয় রান ১৪৪। এরপর এমব্রিস ও ড্যারেন ব্রাভো মিলে ২৩ ওভারে ১৫২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ২১০ রানের ২৪ ওভারে।

বিশাল রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার সূচনা হয় দারুণভাবে। ঝড় গতিতে খেলতে থাকেন সৌম্য সঙ্গ দেন তামিম৷ দলীয় ৫৯ রানের সময় শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে জেসন হোল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান তামিম। তামিম করেন ১৩ বলে ১৮ রান। সাব্বির রহমান স্ট্রাইকে নেমে ২ বলের সময় আউট হয়ে যান। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মুশফিক নেমে সৌম্যের সাথে তাল মিলিয়ে দূর্দান্তভাবে খেলতে থাকে। সৌম্য সরকার তুলে নেন টানা চতুর্থবারের মতো অর্ধ শতক। সৌম্যের ঝড় ইনিংস স্বস্তি দেয় বাংলাদেশ দলকে এবং স্বাভাবিক রাখে রান রেট৷ বাংলাদেশের দলীয় ১০৯ রানের সময় আউট হয়ে যান সৌম্য। ৪১ বলে ৬৬ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেন তিনি। এর জন্য তিনি খেলেন ৯ টি চার এবং ৩ টি ছক্কার মার। তার আউট এর পর কিছুটা বাঁক পেতে হয় বাংলাদেশ দলকে। মিথুন ও মুশফিক সেই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করতে থাকেন। দলীয় ১৩৪ রানের মুশফিকের উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল। ২২ বলে ৩৬ রান করে রেইমন রেইফারের বলে এলবিডব্লু হয়ে আউট হন মুশফিক। এরপর দলীয় ১৪৩ রানের সময় আউট হয়ে যান মিথুন। ফাবিয়ান এ্যালেন এর বলে এলবিডব্লু হয়ে ১৪ বলে ১৭ রান করে আউট হন মিথুন। এবার মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক এর জুটি। সাবধানে খেলা মাহমুদুল্লাহর সঙ্গ দিয়েছেন মারকুটে ভাবে খেলা মোসাদ্দেক হোসেন। ১৯২. ৫৯ স্ট্রাইক রেটে খেলা মোসাদ্দেক তুলে নিলেন অর্ধ শতক৷ তখন বাংলাদেশ প্রায় জয়ের দোরগোড়ায়। মাহমুদুল্লাহর অসাধারণ চারের ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলেনেয় টাইগাররা।   এর মাধ্যমে বাংলাদেশ তুলে নেয় তাদের প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা।

ফাইনালের অভিশাপ কাটিয়ে সপ্তম ফাইনালে এসে জয়ের দেখা পেলো টাইগাররা। এই প্রথম অসাধারণ একটি জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতে নেয় ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ দল।

সর্বোচ্ছ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর সাই হোপ এবং ২২ বলে ৫২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার জিতেছেন বাংলাদেশের মোসাদ্দেক হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: