দূর্দান্ত জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করলো টাইগাররা!

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল। টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত.

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল।

টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাই হোপ ও সুনিল এমব্রিস এর ওপেনিংয়ের শুরুটা ছিলো বেশ ভালোই। তবে দলীয় ৩৭ রানের সময় ১৯ বলে ২৩ রান করে আউট হয়ে যান এমব্রিস। মাশরাফি দূর্দান্ত বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যায় এমব্রিস। দলীয় ৫৬ রানের মাথায় ড্যারেন ব্রাভোর উইকেট হারায় উন্ডিজ। মেহেদী হাসান মিরাজ এর বলে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ড্যারেন ব্রাভো। রোস্টন চেস ও সাই হোপের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিলেও ২৯ বলে ১৯ রান করে প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন রোস্টন চেস। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের অসাধারণ এক স্পেলে মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান চেস৷ তখন দলীয় রান ৮৯ রান ৩ উইকেট হারিয়ে। প্রত্যেক ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও অপ্রতিরোধ্য সাই হোপ। তুলে নিলেন আরেকটি অর্ধ শতক। উইন্ডিজের ৯৯ রানের সময় আউট হয়ে যান জোনাথান কার্টার। এবারো মোস্তাফিজ ঘূর্ণিতে এলবিডব্লু হয়ে আউট হন কার্টার। ১০০ রানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে উইন্ডিজ। কারো উপর ভরসা না করে উইন্ডিজের ক্যাপ্টেন জেসন হোল্ডার নিজেই ধরলেন ম্যাচের হাল। হোপের সাথে জুটি বেঁধে হোল্ডার করেন অর্ধ শতক। দলীয় ১৯৯ রানের সময় সাই হোপকে থামান টাইগার কাপ্তান মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১০৮ বলে ৮৭ রানের একটি দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন হোপ৷ মাশরাফির বলে উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম এর হাতে ক্যাচ হয়ে আউট হন হোপ। এরপর উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকেও হোপের মতো একি ফাঁদে ফেলে আউট করে দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২১১ রানে ফাবিয়ান এলেন এর উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান। মোস্তাফিজের ৯তম ওভারে তিনি তুলে নেন দুইটি উইকেট। এ্যাশলে নার্স ও রেইমন রেইফারের উইকেট নেন ফিজ। উন্ডিজ ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশকে।

মাশরাফি ১০ ওভারে ৩ টি উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ৯ ওভারে তুলে নেন ৪ টি উইকেট। সাকিব এবং মিরাজ একটি করে উইকেট তুলে নেন। ২.৭০ ইকোনমিতে বল করা সাকিব করেছেন সবচেয়ে কৃপন বোলিং। ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান একটি মেইডেন ওভার করেছেন এবং ১ টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম-সৌম্যের ওপেনিং জুটি ছিলো দূর্দান্ত। তবে দলীয় ৫১ রানের সময় এ্যাশলে নার্সের বলে লং শর্ট খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট হয় তামিম। তামিম করেন ২৩ বলে ২১ রান। সাকিবকে সাথে নিয়ে সৌম্য খেলতে থাকে তার নিজের ছন্দে। তুলে নেন ব্যাক টু ব্যাক ম্যাচে নিজের অর্ধ শতক। দলীয় ১০৬ রানের মাথায় ৩৫ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান সাকিব। সাকিবের উইকেটিও তুলে নেন নার্স। পর পর আউট হলেন সৌম্য সরকার। ৬৭ বলে ৫৪ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেন সৌম্য। মারেন ৪টি চার এবং ২ টি ছয়ের মার৷ এ্যাশলে নার্স সাকিব ও সৌম্যের উইকেট এক ওভারে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে। মুশফিক ও মোহাম্মদ মিথুন বাঁধেন নতুন জুটি। দুইজন মিলে দলীয় রান নিয়ে যান ১৯০ রানে। ১৯০ রানের সময়ই ৫৩ বলে ৪৩ রান করে জেসন হোল্ডারের বলে বোল্ড আউট হন মিথুন। মাহমুদুল্লাহকে সাথে নিয়ে দলীয় ২২৮ রানের সময় নিজের অর্ধ শতক তুলে নেন মুশফিকুর রহিম৷ দলীয় ২৪০ রানের মাথায় কেমার রোচ এর বলে ৭৩ বলে ৬৩ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে আউট হন মুশফিক। ৫ টি চার এবং ১ টি ছক্কা হাঁকান তিনি৷
১৬ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের বিশাল জয় পায় টাইগাররা। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিশ্চিত করে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর নার্স ৩ টি এবং রোচ ও হোল্ডার ১ টি করে উইকেট তুলে নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: