দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের কারণে হার দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে!!

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমিকরণ। সেমিফাইনালে যেতে হলে আগে.

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমিকরণ। সেমিফাইনালে যেতে হলে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ৩৫০ রানের টার্গেট দিলে হারাতে হবে ৩১১ রানে আবার বাংলাদেশকে ৪০০ রানের টার্গেট দিলে হারাতের হবে ৩১৬ রানে। এমন কঠিন সমিকরণে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

পাকিস্তানের ওপেনিংয়ে নামা ফকর জামান ও ইমামুল হককে শুরু থেকেই চাপে রাখে টাইগার বোলাররা। পাকিস্তানের দলীয় ২৩ রানেই ফখর জামানের উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে ৩১ বলে ১৩ রান করা ফিরে যান ফখর জামান। চাপে পড়া পাকিস্তানকে স্বস্তির জুটি এনে দেয় ইমামুল হক ও বাবর আজম। প্রথমে বাবর আজম এবং পরে ইমামুল হক তুলে নেন নিজেদের কাঙ্খিত অর্ধশতক। বাবর এবং ইমাম মিলে বাঁধেন ১৫৭ রানের জুটি৷ বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠা বাবর আজমকে থামান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। দলীয় ১৮০ রানের সময় ভাঙে বাবর এবং ইমামের জুটি। সাইফুদ্দিনের বলে এলবিডব্লু হয়ে ৯৮ বলে ৯৬ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আউট হন বাবর।

বাবরের আউটের পর হাফিজ ও ইমাম মিলে ধরেন ৬৬ রানের জুটি। ইমামুল হক তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৯৯ বলে শতক পূরণ করেন ইমাম। দলীয় ২৪৬ রানের সময় মোস্তাফিজের বলে হিট উইকেটে আউট হয়ে যান ইমামুল হক। ১০০ বলে ১০০ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে আউট হন ইমাম। মেহেদী হাসান মিরাজের শেষ ওভারে পাকিস্তানের দলীয় ২৪৮ রান চলাকালে ক্যাচ আউট হয়ে যান মোহাম্মদ হাফিজ। সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ২৫ বলে ২৭ রান করে আউট হন হাফিজ। পাকিস্তানের দলীয় ২৫৫ রানের সময় হারিস সোহেলের উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এই উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে ওয়ানডেতে দ্রুততম সময়ে ১০০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন মোস্তাফিজ। মাত্র ৫৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট শিকার করলেন ফিজ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। দলীয় ২৬৭ রানের সময় হাতে বলে লেগে চোট পাওয়ার কারণে মাঠ ছাড়েন পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

পাকিস্তানের দলীয় ২৮৮ রানের সময় ওয়াহাব রিয়াজকে বোল্ড আউট করে ফিরান সাইফুদ্দিন। এরপরেই সাদাব খানের উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ। ইমাদ ওয়াসিমের মারকুটে ব্যাটিং পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ ৩১৪ তে নিয়ে যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে ইমাদ ওয়াসিমকে ক্যাচ আউট করে দেন মোস্তাফিজ। ২৬ বলে ৪৩ রান করে আউট হন ইমাদ ওয়াসিম। এরপরের বলেই মোহাম্মদ আমিরকে আউট করার মাধ্যমে পর পর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০ ওভার শেষে ৩১৫ রান।

বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজ ৫ টি উইকেট তুলে নেন। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন তুলে নেন ৩ টি উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে নেন ১ টি উইকেট।

৩১৬ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা দূর্দান্ত করলেও দলীয় ২৬ রানে সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আমিরের বলে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ তুলে ২২ বলে ২২ রান করে আউট হয়ে যান সৌম্য। এরপরে বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি তামিমও। দলীয় ৪৮ রানের সময় শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান তামিম। ২১ বলে ৮ রান করে আউট হন তামিম ইকবাল। দুই ওপেনারকে হারিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে চরম বিপর্যয় ঘটে। মুশফিকুর রহিমের সাথে সাকিব আল হাসানের ৩০ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা টিকলো না বেশীক্ষণ। দলীয় ৭৮ রানের সময় ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড আউট হয়ে যান মুশফিক। ১৯ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান তিনি। একে একে তিন ব্যাটসম্যান হারিয়ে ম্যাচের খেই হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

সাকিব ও লিটন দাস ধরেন ৫৮ রানের জুটি। সাকিব তুলে নেন বিশ্বকাপে তার পঞ্চম অর্ধশতক। দলীয় ১৩৬ রানের সময় ভেঙে যায় সাকিব-লিটন জুটি। শাহিন আফ্রিদির বলে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান লিটন দাস। ৪০ বলে ৩২ রান করে আউট হন লিটন। এরপর দলীয় ১৫৪ রানে সাকিবের উইকেটও হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। ৭৭ বলে ৬৪ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন সাকিব। ১৫৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ধরে ৪৩ রানের জুটি। দলীয় ১৯৭ রানের সময় ভাঙে তাদের জুটি। সাদাব খানের বলে ক্যাচ তুলে ২১ বলে ১৬ রান করে আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক। স্ট্রাইকে নেমে প্রথম বলে আউট হয়ে যায় ভারতের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি করা সাইফুদ্দিন। এর এক বল পরেই মাহমুদুল্লাহর উইকেট তুলে নেন শাহিন আফ্রিদি। এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা ধুলোয় মিশিয়ে দিলো শাহিন আফ্রিদি। মাহমুদুল্লাহ ফিরে যান ৪১ বলে ২৯ রান করে। মাহমুদুল্লাহ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নেওয়ার খাতায় নাম উঠলো শাহিন আফ্রিদির নাম। দলীয় ২১৯ রানের সময় আউট হয়ে যান মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন মাশরাফি। এরপরেই মোস্তাফিজের উইকেট তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ৯৪ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের হয়ে ৬ টি উইকেট তুলে নেন শাহিন আফ্রিদি। সাদাব খান ২ টি এবং আমির ও ওয়াহাব রিয়াজ ১ টি করে উইকেট তুলে নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: