দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের কারণে পাকিস্তানের হার!

টনটনের কাউইন্টি গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে.

টনটনের কাউইন্টি গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য। অ্যারন ফিঞ্চ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিং তান্ডবে অজিদের শুরুটা হয় বেশ দূর্দান্ত এবং পাকিস্তানের জন্য বিপদজনক। ওয়ার্নার এবং ফিঞ্চ দুই জনই তুলে নিলেন তাদের অর্ধশতক। অর্ধশতক করার পরেও অপ্রতিরোধ্য এই দুই অজি ওপেনার। ভয়ংকর হয়ে উঠা ফিঞ্চকে ফেরান পাকিস্তানের তুরুপের তাস মোহাম্মদ আমির। ফিঞ্চ খেলেন ৮৪ বলে ৮২ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস। এর জন্য তিনি চারটি ছক্কা এবং ৬ টি চারের মার মারেন।

ফিঞ্চ আউট হওয়ার পরেও অপ্রতিরোধ্য ডেভিড ওয়ার্নার। খেললেন নিজের ছন্দে। দলীয় ১৮৯ রানের সময় স্টিভ স্মিথের উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ হাফিজ। ১৩ বলে ১০ রান করে আউট হন স্মিথ। এর পর ওয়ার্নারের সাথে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিছুটা মারমুখী ভঙ্গিতে খেললেন ম্যাক্সওয়েল। ভয়ংকর হতে থাকা ম্যাক্সওয়েলকে ফিরালেন শাহিন আফ্রিদি। ১০ বলে ২০ রান করেন ম্যাক্স ওয়েল। ১ টি ছয় ও ২ টি চার মারেন ম্যাক্সওয়েল। তখন অস্ট্রেলিয়ার দলীয় রান ২২৩ রান ৩ উইকেট হারিয়ে৷ এবার ওয়ার্নারের সাথে শোন মার্শ। ওয়ার্নার তুলে নেন দূর্দান্ত একটি শতক। ১১১ বলে ১০৭ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার। ১১ টি চার এবং ১ টি ছক্কা হাকান তিনি। এরপর ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তানের বোলাররা। অজি কোনো ব্যাটসম্যান সেইরকমভাবে টিকতে পারেনি মাঠে। দলীয় ২৭৭ রানের সময় আউট হয়ে যান উসমান খাজা। ১৬ বলে ১৮ রান করেন খাজা। খাজার উইকেটটি তুলে নেন মোহাম্মদ আমির। দলীয় ২৮৮ রানে আবারো আমিরের হানা। এবার আমিরের বলে পতন ঘটে শন মার্শের। এরপরে একে একে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটের পতন ঘটতে থাকে। দলীয় ২৯৯ রানের সময় কোউল্টার নিলের উইকেট তুলে নেন ওয়াহাব রিয়াজ। এরপরেই প্যাট কুমিন্স আউট হয়ে যান। তার উইকেটটি তুলে নেন হাসান আলি। দলীয় ৩০৪ রানের সময় অ্যালেক্স ক্যারেইকে সাঝ ঘরে ফিরান আমির। ৩০৭ রানের মাথায় মিচেল স্টার্কের উইকেটের সাথে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। স্টার্কের উইকেটটিও তুলে নেন মোহাম্মদ আমির।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আমির তুলে নেন ৫ টি উইকেট। শাহিন আফ্রিদি ২ টি এবং মোহাম্মদ হাফিজ, ওয়াহাব রিয়াজ, হাসান আলি তুলে নেন ১ টি করে উইকেট।

৩০৮ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমেই দলীয় ২ রানেই ফখর জামানের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। প্যাট কুমিন্স তুলে নেন ফখর জামানের উইকেটটি। ফখর জামান ফিরে যান কোনো রান না করেই। ইমামুল হক ও বাবর আজম মিলে পাকিস্তানকে হোঁচট থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে দলীয় ৫৬ রানে আবারো বিপাকে পাকিস্তান। এবার বাবর আজমের উইকেটের পতন ঘটে। কৌল্টার নিলের বলে কেন রিচার্ডসনের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন বাবর আজম। ২৮ বলে ৩০ রান করে ফিরে যান বাবর আজম। চাপের মুখে অসাধারণ একটি অর্ধশতক তুলে নেন ইমামুল হক। দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় দলের সেট ব্যাটসম্যান ইমামুল হকের উইকেট হারিয়ে আবার বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ৭৫ বলে ৫৩ রান করে আউট হন ইমাম। এর জন্য ৭ টি চার মারেন ইমাম।

এরপর দলীয় চাপ সামলানোর চেষ্টা মোহাম্মদ হাফিজের। কিন্তু হাফিজও ব্যর্থ অজি বোলারদের সামনে। দলীয় ১৪৬ রানের সময় হাফিজ আউট হয়ে যান। ৪৯ বলে ৪৬ রান করে আউট হন হাফিজ তার উইকেটটি তুলে নেন অ্যারন ফিঞ্চ। শোয়েব মালিক নেমেই আউট হয়ে যান। ২ বলে কোনো রান না করেই আউট হয়ে যান শোয়েব মালিক। প্যাট কুমিন্স তুলে নেন মালিকের উইকেটটি। আসিফ আলিকে সাথে নিয়ে সরফরাজ আহমেদের জুটি বাঁধার চেষ্টা। কিন্তু সেটিও হয়ে উঠলো না। দলীয় ১৬০ রানের সময় আসিফ আলির উইকেটের পতন ঘটে। কেন রিচার্ডসন তুলে নেন আসিফ আলির উইকেটটি। এরপর সরফরাজ আহমেদ হাসান আলিকে নিয়ে জুটি বাঁধলেন। হাসান আলি খেললেন ১৫ বলে ৩২ রানের একটি ঝড় ইনিংস। ৩ টি ছক্কা এবং ৩টি চার মারেন তিনি। দলীয় ২০০ রানের সময় আউট হন হাসান আলি। তখন পাকিস্তান ৭ টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। ওয়াহাব রিয়াজকে সাথে নিয়েও জুটি বাঁধলেন সরফরাজ আহমেদ। দলীয় ২৬৪ রানের সময় ওয়াহাব রিয়াজের উইকেটের মাধ্যমে সেই জুটি ভেঙে যায়। ৩৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হন ওয়াহাব রিয়াজ। ৩ টি ছক্কা এবং ২ টি চার মারেন তিনি। এরপরে কেউই সরফরাজকে সঙ্গ দিতে পারেনি। মোহাম্মদ আমির নেমেই আউট হয়ে যান কোনো রান না করেই। এর পরে ১৬৬ রানের সময় রান আউট হয়ে যান সরফরাজ আহমেদ। ৪৮ বলে ৪০ রান করেন সরফরাজ আহমেদ। ফলে ৪১ রানের জয় তুলে নেয় অঅস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্যাট কুমিন্স ৩ টি এবং মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন দুইটি করে উইকেট তুলে নেন। অ্যারন ফিঞ্চ ও কোল্টার নিলে ১ টি করে উইকেট তুলে নেন।

১১১ বলে ১০৭ রানের একটি দূর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: