জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো টাইগাররা!

ওভালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম.

ওভালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ও সৌম্য সরকার শুরুটা ভালোই করে। দলীয় ৬০ রানের সময় তামিম ইকবাল আউট হয়ে যান। ২৯ বলে ১৬ রান করে আউট হন তামিম। তামিমের আউটের কিছুক্ষন পরেই সৌম্য সরকারের উইকেটের পতন ঘটে। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দেখা দেয় বিপর্যয়। সাকিব ও মুশফিক খেলতে থাকে সাবধানতার সাথে। সাকিব ও মুশফিকের জুটি বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। দুই জনই তুলে নেন তাদের অর্ধশতক। বাংলাদেশের দলীয় রান যখন ২১৭ তখন সাকিবের উইকেটের পতন ঘটে। ৮৪ বলে ৭৫ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন সাকিব। ৮ টি চার এবং ১ টি ছয় মারেন সাকিব। এরপর মোহাম্মদ মিথুন ও মুশফিকের জুটি বেশিদূর এগোতে পারেনি। দলীয় ২৪২ রানের সময় মোহাম্মদ মিথুন আউট হয়ে যান৷ ২১ বলে ২১ রান করে আউট হন মিথুন। মিথুনের কিছুক্ষণ পরেই আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। ৮০ বলে ৭৮ রানের একটি ঝড় ইনিংস খেলে আউট হন মুশফিক। ৮ টি চার মারেন মুশফিক। পরপর ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বাকপেতে হয় বাংলাদেশকে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেনের জুটি বাংলাদেশকে সেই ধাক্কা থেকে তুলে আনে। ২০ বলে ২৬ রান করে আউট হন মোসাদ্দেক। তখন বাংলাদেশের দলীয় রান ৩১৬। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৩৩ বলে ৪৬ রানের ঝড় ইনিংসে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৩০ রানের বিশাল রানের টার্গেট দেয়। এটিই বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্ছ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এন্ডিলে পেহলুকওয়েয়ো, ক্রিস মরিস এবং ইমরান তাহির ২ টি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া বিশাল রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা দলীয় ৪৯ রানের সময় ডি ককের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। ডি কককে মুশফিকুর রহিম রান আউট করেন। ৩২ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান ডি কক। এইডেন মার্করাম ও ডু প্লেসিসের শক্ত জুটি দক্ষিন আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো। দলী ১০২ রানের সময় এই দুইজনের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এইডেন মার্করাম ফিরে গেলেন ৫৬ বলে ৪৫ রান করে। মার্করামের উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে ওয়ানডেতে দ্রুত ২৫০ উইকেট শিকারের তালিকায় নাম লেখালেন সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকার দলীয় ১৪৭ রানের সময় ফাফ ডু প্লেসিসের উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডু প্লেসিসকে বোল্ড আউট করে সাঝ ঘরে ফিরান মিরাজ। ৫৩ বলে ৬২ রান করে ফিরে যান ডু প্লেসিস৷ এরপর ডেভিড মিলার ও ভ্যান ডার ডাসেন এর জুটি বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১ রানের সময় ডেভিড মিলার আউট হলে কিছুটা চাপ মুক্ত হয় বাংলাদেশ। ৪৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন মিলার। জেপি ডুমিনির সাথে ভ্যান ডার ডাসেনের জুটি বেশিদূর যেতে পারেনি। দলীয় ২২৮ রানের সময় ভ্যান ডার ডাসেনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান ডাসেন। ৩৮ বলে ৪১ রান করেন ডাসেন। এরপর ডুমিনি সেট হয়ে যান। তিনি নিজের ছন্দে খেলতে থাকেন। যা বাংলাদেশের বোলারদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দলীয় ২৫২ রানের সময় এন্ডিলে পেহলুকওয়ায়োর উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এরপর দলীয় ২৭৫ রানের সময় ক্রিস মরিসের উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ভয়ংকর ডুমিনিকে সাঝ ঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট এনে দেন মোস্তাফিজ। ৩৭ বলে ৪৫ রান করে ডুমিনি। এরপর কাগিসো রাবাদা ও ইমরান তাহির পারেননি টাইগার বোলারদের সামনে টিকতে পারেনি। ফলে ২১ রানের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো টাইগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি উইকেট তুলে নেন। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ২ টি উইকেট তুলে নেন। মিরাজ ও সাকিব নেন ১ টি করে উইকেট।

৮৪ বলে ৭৫ রান এবং ১০ ওভার বোলিং করে ৫০ রান দিয়ে ১ টি উইকেট তুলে নিয়ে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: