আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সহজ জয়!

ক্লোনটার্ফ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল । টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। আয়ারল্যান্ডের ওপেনিংয়ে.

ক্লোনটার্ফ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল । টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড।

আয়ারল্যান্ডের ওপেনিংয়ে নামেন পল স্টার্লিং ও ম্যাককালাম। শুরুতেই দলীয় ২১ রানের সময় আয়ারল্যান্ড শিবিরে আঘাত হানে রুবেল হোসেন। ম্যাককালাম ফিরে গেলেন ১০ বলে ৫ রান করে। এরপর দলীয় ৫৯ রানের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা এন্ড্রে বলবিরনি কে ফেরান আবু জায়েদ রাহি। মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন বলবিরনি। এরপর উইলিয়াম পোর্টার ফিল্ড ও পল স্টার্লিং অনেক মজবুত জুটি ধরে। যা কিছুটা বিপদে ফেলে বাংলাদেশের বোলারদের। পল স্টার্লিং তুলে নেন শতক। দলীয় ২৩৩ রানের সময় স্টার্লিং ও পোর্টারফিল্ডের জুটি ভাঙ্গেন রাহি। উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ১০৬ বলে ৯৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে আউট হন পোর্টারফিল্ড। এর জন্য তিনি মারেন ৭ টি চার এবং ২ টি ছক্কা। স্টার্লিং ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। দলীয় ২৬৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান কেবিন ও ব্রায়ান। তার উইকেটটি ও তুলে নেন রাহি। পরপরই আউট হয়ে যান স্টার্লিং। ভয়ংকর স্টার্লিংকে প্যাভিলিয়নে পাঠালেন রাহি। স্টার্লিং ফিরে গেলেন ১৪১ বলে ১৩০ রানের একটি ঝড় ইনিংস খেলে। ৪ টি ছক্কা এবং ৮ টি চার মারেন স্টার্লিং। আয়ারল্যান্ডের দলীয় রান তখন ২৬৪ উইকেট হারায় ৫ টি। ২৮৭ রানের সময় গ্যারি উইলসনের উইকেট নেয়ার মাধ্যমে অভিষেকের দ্বিতীয় ম্যাচেই ৫ উইকেট তুলে নিলেন রাহি। মার্ক এ্যাডেইর এবং জর্জ ডকরেলের উইকেট তুলে নেয় সাইফুউদ্দিন। ফলে আয়ারল্যান্ড ২৯৩ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশকে ৮ উইকেট হারিয়ে।

আবু জায়েদ রাহি ৯ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন। সাফুউদ্দিন দুটি এবং রুবেল ১ টি উইকেট পান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ও লিটন দাসের জুটি ছিলো অপ্রতিরোধ্য। আয়ারল্যান্ডের বোলারদের তুলোধুনো করেছে এই দুই ওপেনার। দুইজনই তুলে নেন নিজেদের অর্ধ শতক। দলীয় ১১৭ রানের সময় ৫৩ বলে ৫৭ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল৷ ৯টি চার মারেন তিনি। বয়েড র‍্যানকিনের বলে বোল্ড আউট হন তামিম। তামিমের আউটের পরে লিটন দাস ও সাকিবের আল হাসানের জুটি থামে দলীয় ১৬০ রানে। ৬১ বলে ৭৬ রানের একটি অপ্রতিরোধ্য ইনিংস খেলে আউট হন লিটন দাস। একটি ছক্কা এবং ৯ টি চার মারেন তিনি। এরপর সাকিব ও মুশফিকের জুটি বাংলাদেশের রান সুবিধা স্থানে নিয়ে যায়। দলীয় ২২৪ রানের সময় ৩৩ বলে ৩৫ রান করে আউট হন মুশফিক। এরপর সাকিবের একান্ত ৪৭ রানের সময় কোমরে চোট পায় সাকিব আল হাসান। তার মাঠে থাকা কিছুটা শংকায় পড়ে। পরে তিনি অর্ধ শতক পূরণ করে মাঠ থেকে উঠে যান। ৫১ বলে ৫০ রান করেন তিনি। এরপর মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক মিলে বাংলাদেশকে নিয়ে যায় জয়ের দোরগোড়ায়। ২৭৮ রানের সময় আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক হোসেন। ১৭ বলে ১৪ রান করেন তিনি। তার উইকেট এর পর জয় পেতে খুব একটা কষ্ট হয়নি সাব্বির রহমানের ছক্কা মেরে ফিনিসিং এর মাধ্যমে দিয়ে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। হাতে ছিলো এখানো ৭ টি ওভার। মাহমুদুল্লাহ ২৬ বলে ৩৪ রান এবং সাব্বির রহমান ৮ বলে ৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

৫৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার জিতেছেন আবু জায়েদ রাহি।

আগামী ১৭ই মে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে টাইগাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: