অবহেলিত পেসাররা!! সুযোগ আসবে কবে?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ দল৷ অবাক করার বিষয় হচ্ছে কোনো পেস আক্রমণ ছাড়াই আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে টাইগাররা৷.

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ দল৷ অবাক করার বিষয় হচ্ছে কোনো পেস আক্রমণ ছাড়াই আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে টাইগাররা৷ বিশ্বজুড়ে যেখানে অধিকাংশ দল বোলিং আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে ভরসা রাখে পেসারদের উপর সেখানে বাংলাদেশের চিত্রটা ঠিক যেনো উল্টো! এশিয়া কিংবা এশিয়ার বাইরে পেসারদেরকেই বোলিংয়ের মূল অস্ত্র ভাবা হয়। সে জায়গায় বাংলাদেশ দল স্পিনকেই প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছে।

তবে গতবছর পেস আক্রমণ ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দারুণ সফলতা পেয়েছিলো টাইগাররা। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষের টেস্টে জয় আসবে কি না সেটা বলা এখনো সম্ভব নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষের টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়িয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর। অবাক করার বিষয় হলো এই ম্যাচেও বাংলাদেশের একাদশে রাখা হয়নি কোনো স্পেশালিষ্ট পেসার!

চট্রগ্রাম টেস্টের উইকেট তৈরি করা হয়েছে স্পিন সহায়ক৷ সেখানে পেসারদের কোনো কাজ নেই প্রথমদিনের খেলা শেষে এমনটাই জানিয়েছিলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম৷ বিশ্ব ক্রিকেটে যেখানে পেসাররা শাসন করছে সেই জায়গায় ঘরের মাঠে স্পিন বান্ধব উইকেট সাজিয়ে স্পিনকেই বোলিংয়ের মূল অস্ত্র বানানোর সিদ্ধান্তটি কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে দেশের ক্রিকেটের জন্য?

অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ভাষ্য মতে, জয়ের জন্যই স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরি করা। জয় খোঁজার লক্ষ্যেই পেসারদের উপর কম ভরসা রাখা হয়েছে। ঘরের মাঠে স্পিনে ভরসা করে জয় পাওয়া গেলে হোম কন্ডিশনে তাই করা উচিত।

তবে ঘরের মাঠে জয় খুঁজতে গিয়ে বিদেশের মাটিতে পেসাররা যে ভালো করতে পারবে সেই সুযোগও আটকে যাচ্ছে ড্রেসিংরুমে! সেই সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে?

পেসাররা সুযোগ পাচ্ছে না বলে বিদেশের মাটিতে ভালো সাফল্য পাচ্ছে না এমনটা মনে হতেই পারে। বিশ্বকাপে পেস বান্ধব উইকেট পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের পেসাররা। দলে সুযোগ পাননি তাসকিন আহমেদ। সুযোগ পেয়েছিলেন আবু জায়েদ রাহি। তবে রাহিকে দশর্ক হিসেবেই থাকতে হয়েছে পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে। খেলার সুযোগ হয়নি একটি ম্যাচেও৷ অন্যদিকে তাসকিন আহমেদ বিশ্বকাপ ছাড়াও একাধিক সিরিজে ডাক পেয়েছেন কিন্তু তাসকিনেরও মাঠে নামা হয়নি এক ম্যাচেও। আফগানিস্তানের বিপক্ষের টেস্টেও ডাক পেয়েছেন এই দুইজন পেসার। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত এই ম্যাচেও সুযোগ পাননি তাসকিন ও রাহি। তাসকিন ও রাহির সঙ্গে আরো একজন পেসার ডাক পেয়েছিলেন দলে। তিনি হলেন ইবাদত হোসেন৷ তাকেও বসে থাকতে হচ্ছে বেঞ্চে।

এশিয়ার দলগুলো যেখানে পেসারদের বোলিংকে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন সেই জায়গায় বাংলাদেশের পেসাররা বার বার অবহেলিত। আর তাইতো পেস বান্ধব উইকেটে খেলতে গিয়ে বার বার স্লান বাংলাদেশের বোলিং৷

আফগানিস্তানের মতো খর্বশক্তির দলও গুরুত্ব দিয়েছে পেস বোলিংয়ের ক্ষেত্রে। দলে রেখেছে একজন স্পেশালিষ্ট পেসার।

তাই দিনশেষে প্রশ্ন থেকেই যায় পেসাররা সুযোগ না পেলে দেশের বাইরে কীভাবে সাফল্য পাবে বাংলাদেশ দল?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: