অজিত আগারকার এবং মাশরাফি সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন তামিম!

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে পেতে হয়েছে টানা দুই হারের স্বাদ। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনেকেরই ফর্ম রয়েছে নড়বড়ে। দুই হার এবং একম্যাচ বৃষ্টির.

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে পেতে হয়েছে টানা দুই হারের স্বাদ। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনেকেরই ফর্ম রয়েছে নড়বড়ে। দুই হার এবং একম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সেমিফাইনালের সমিকরণ হয়ে দাড়িয়েছে অনেক কঠিন। যার কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তামিম, মাশরাফি এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে।

তবে সব থেকে বেশি সমালোচনা হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। যা মেনে নিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। সংবাদ সম্মেলনে এসে মাশরাফি সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন তিনি। হাসিমুখেই নিন্দুকদের ধুয়ে দিলেন তামিম।

মাশরাফির সমালোচনাকারীদের সম্পর্কে তামিম বলেন, কথাটা কারা বলে এটা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। আমার কথা বাদ দেই, মাশরাফি ভাইয়ের কথাটাই বলি। আমি একটা ইন্টারভিউতে বলেছিলাম— যারা এই কথাটা লিখছে বা যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছে তারা যদি ঐ লেখাটা লেখার আগে বা কিছু একটা বলার আগে দুই মিনিট যদি একটু চিন্তা করে আমি কার ব্যাপারে বলছি, তিনি কী করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গত ১৫-১৬ বছরে। ধরুন সে আনফিট সে তো দশ বছর ধরেই আনফিট। তখন কিন্তু আমরা এটা আবেগি হয়ে দেখেছি। এখন হয়তোবা একটু উনিশ – বিশ হচ্ছে দেখে বড় করে দেখছি।

তামিম আরো বলেন, এমন একটা ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা এসব কথা বলছি যার হাত ধরেই আমাদের এতদূর আসা। আমার কাছে মনে হয় এটা খুবই দূর্ভাগ্যজনক। উনি যা করেছেন দলের জন্য, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এখানে আনার জন্য, উনার ব্যাপারে এভাবে কিছু মন্তব্য করা বা আলোচনা করা এটা খুবই অশোভন।

এদিকে দেশীয় সমালোচকদের পাশাপাশি মাশরাফিকে নিয়ে সমালোচনাপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজিত আগারকার। তিনি বলেছিলেন মাশরাফিকে একাদশের বাইরে রাখা উচিত। জাতীয় দলে অজিতের রেকর্ডও খুব একটা সুনামজনক ছিলো না। অজিতের নাম উল্লেখ না করলেও তার এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে ভুলেননি তামিম।

এই প্রসঙ্গে তামিম বলেন, তিনি যা করেছেন তার জন্য তিনি আরও সম্মানের দাবি রাখেন। অন্যরা কি বলছে তাতে আমি মোটেও পাত্তা দিই না। কিছু বিদেশি ক্রিকেটাররাও বলেছেন এ নিয়ে আমি শুনেছি, তো ওরা নিজেদের জীবনেই বা কি করেছেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটা। উনারা নিজের ক্যারিয়ারে কি করেছেন যে একটা মানুষকে নিয়ে এভাবে বলেন। সবার একটা অভিমত থাকে আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ দেশের বাইরের লোকজন কি বলছেন। কিন্তু দেশের মানুষের এটা বোঝা উচিত আমি যখন মাশরাফিকে নিয়ে কথা বলছি, সে তো দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছেন। ভালো খেলবেন আবার খারাপ খেলবেন আবার ভালো খেলবেন আবার খারাপ খেলবেন — এই চক্রের মধ্য দিয়ে আপনাকে যেতে হবে। শুধু ভালো খেললেই সাথে থাকবেন এমনটা তো নয়। যখন খারাপ খেলবে তখনও সাথে থাকতে হবে।

দেশের মানুষ অহেতুক সমালোচনা ছড়াবেন না এই প্রত্যাশা নিয়ে তামিম বলেন, এইরকম একটা মেগা ইভেন্টে প্রত্যেকটা খেলোয়াড় ভালো খেলবে না। এমনকি যেই দল চ্যাম্পিয়ন হবে ঐ দলেরও ১১ জন খেলোয়াড়ই ভালো খেলবে না। কিছু খেলোয়াড় থাকবে যারা ফর্মে থাকবে না। খুব বেশি জানি না কি লেখা হচ্ছে না হচ্ছে, তবে কিছু জানি না। আশা করবো মানুষ এতো কিছু আর করবেন না। উনি এতো কিছু করেছেন বাংলাদেশ দলের জন্য, আমাদের এইটা স্বরণ রাখা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: